নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জেলাস্তরে তৃণমূল পুরনো জুটির উপরই ভরসা রেখেছে। রবীন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ফের সভাপতি করা হয়েছে। অপূর্ব চৌধুরীও চেয়ারম্যান পদেই রয়েছেন। কিন্তু, ব্লক স্তরের বেশকিছু পরিবর্তন আনছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি এক পদ নীতি দল কার্যকর করতে চলেছে। সেক্ষেত্রে পূর্ব বর্ধমানের তিন-চারটি ব্লকের সভাপতি পদে নতুন মুখ আসতে চলেছে। তাঁরা সাংগঠনিক পদে থাকার পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতি বা জেলা পরিষদের কোনও না কোনও পদে রয়েছেন। একই সঙ্গে দু’টি পদে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া ব্লকে আরও অনেক সক্রিয় নেতা রয়েছেন। তাঁদেরকেও দল সুযোগ দিতে চাইছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকজন ব্লক সভাপতির সঙ্গে বিধায়কের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। বহুবার তাঁরা বিতর্কে জড়িয়েছেন। দলের কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। ওই সমস্ত ব্লকের সভাপতি এবং বিধায়কদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু তারপরেও দূরত্ব কমেনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ওই ব্লকগুলিতেও শাসক দল নতুন করে সংগঠন সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূল সংগঠনের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন আরও মজবুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই সংগঠনে কয়েকটি পদের রদবদল হতে চলেছে বলে দলেরই একাংশের দাবি।
দলের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন পদে থেকে কয়েকজন ব্লক সভাপতির আচরণ বদলে গিয়েছে। অথচ তাঁদের সেরকম জনসংযোগ নেই। নিজেদের লোকজনদের নিয়ে তাঁরা একটি বলয় তৈরি করেছেন। এই বলয়ের লোকজনই ব্লক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নেতৃত্ব তা ভালোভাবে দেখছে না। সম্প্রতি মন্তেশ্বরের এক নেতার বিরুদ্ধে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এর আগেও বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। রাতারাতি তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছেন বলে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি। এই জাতীয় নেতাদের দল ডানা ছাঁটার পরিকল্পনা করেছে।
বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, আমরা কখনই ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। মানুষের মন জয় করেই সংগঠন বাড়াতে চাই। মানুষ উন্নয়ন দেখে ভোট দেয়। তাঁরা সবসময় আমাদের পাশে রয়েছেন। দলে থেকে যে বা যারা গাজোয়ারি করবে, নেতৃত্ব নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, পূর্ব বর্ধমানে দলের সংগঠন প্রতিটি ব্লকেই যথেষ্ট মজবুত রয়েছে। কোনও একজন নেতা বা নেত্রীর উপর সংগঠন নির্ভর করে না। তাঁদেরকে বাদ দিলেও দল দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। কিন্তু, বিতর্কিত এই সমস্ত নেতাকে প্রশ্রয় দিলে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। জেলায় কোন নেতা কী করছে, তার সমস্ত ইনপুট রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। সেইমতো তারা ব্যবস্থা নেবে।