নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভোর রাতে পুলিস পরিচয় দিয়ে মাছ ও সব্জি ব্যবসায়ীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটল নিউ বারাকপুরে। মারধর করে তাঁদের থেকে টাকা ও মাছ ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে পুরসভার এক অস্থায়ী কর্মী তথা যুব তৃণমূলের একটি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ভোরে নিউ বারাকপুর থানা এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পুলিস মাছ ব্যবসায়ীদের থেকে সাধারণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিলেও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই যুব নেতার নাম দিয়ে দায়ের করা অভিযোগ নেয়নি। অবশেষে সন্ধ্যায় কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ পুলিস কর্তাদের হস্তক্ষেপে সব্জি ব্যবসায়ী রাজু রায়ের অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় দু’টি অভিযোগ দায়ের হয়। গ্রেপ্তার হয়েছে সুগত বিশ্বাস নামের এক অভিযুক্তও। অপর অভিযুক্ত পুরসভার অস্থায়ী কর্মী শাওন হালদারের খোঁজে পুলিস তল্লাশি চালাচ্ছে। সূত্রে খবর, এদিনের ঘটনায় প্রথমে অভিযোগ না নেওয়ার অপরাধে কর্তব্যরত পুলিস অফিসারকে শো-কজ করা হয়েছে। আইসিকেও কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর বলেন, দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। খোঁজ চলছে অপর অভিযুক্তের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের কাজিপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী ইমান হোসেন ও মফিজুল গাজি এবং নিউ বারাকপুরের দক্ষিণ মাসুন্দার বাসিন্দা সব্জি ব্যবসায়ী রাজু রায় প্রতিদিন ভোরে পাইকারি আড়ত থেকে মাছ ও সব্জি কিনে নিউ বারাকপুরের বাজারে এসে বিক্রি করেন। শুক্রবার ভোরে তাঁরা নিউ বারাকপুর পুরসভা সংলগ্ন ৮ নম্বর রেলগেটের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, পুলিস পরিচয় দিয়ে দুষ্কৃতীরা মাছ ব্যবসায়ীদের মারধর করে এবং ভ্যান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মাছ ছিনতাই করে। সব্জি ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাঁকে মারধর করে প্রায় সাড়ে ছ’হাজার টাকা ছিনতাই করে নেয় ওরা। সকালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এক অভিযুক্তকে চিনতে পারি। তিনি পুরসভার অস্থায়ী কর্মী ও তৃণমূলের যুব নেতা।
অন্যদিকে, মাছ ব্যবসায়ী ইমান হোসেন ও মফিজুল গাজি বলেন, আমরা চাঁপাডালি মোড়ের মাছের আড়ত থেকে মাছ নিয়ে সাজিরহাট বাজারে বিক্রি করতে যাই। এদিন ৮ নম্বর রেলগেটের কাছে পুলিস পরিচয় দিয়ে আমাদের আটকানো হয়। এরপর মিথ্যা মামলার হুমকি ও মারধর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মাছ ভ্যান থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। নিউ বারাকপুরের পুরসভার চেয়ারম্যান প্রবীর সাহা বলেন, অভিযোগ সত্যি হলে পুলিস প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।