Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিলীপের গাজোয়ারি সহ্য হচ্ছে না সতীর্থদের, পদক্ষেপের আর্জি দলেরই কাউন্সিলারদের

অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলাররা। বুধবার তাঁরা একযোগে গর্জে ওঠেন ‘বিদ্রোহী’ মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মনের বিরুদ্ধে।

দিলীপের গাজোয়ারি সহ্য হচ্ছে না সতীর্থদের, পদক্ষেপের আর্জি দলেরই কাউন্সিলারদের
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলাররা। বুধবার তাঁরা একযোগে গর্জে ওঠেন ‘বিদ্রোহী’ মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মনের বিরুদ্ধে। মেয়র গৌতম দেবকে পাশে বসিয়ে কাউন্সিলারদের হুঁশিয়ারি, ওই মেয়র পারিষদকে আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না। তাঁর জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি দলের রাজ্য কমিটির কাছে জানানো হচ্ছে। ‘বিদ্রোহী’ পারিষদ অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর পাল্টা দাবি, দলে ন্যায় বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে এনিয়ে শোরগোল পড়েছে। 

Advertisement

তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, ওই বিষয় নিয়ে এখান থেকে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলতে পারি সমগ্র বিষয় দলের নেতৃত্বের নজরে রয়েছে। 
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান যাই বলুন না কেন দিলীপের দাপট নতুন নয়। কয়েক বছর আগে দলের প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী (সমতল) পাপিয়া ঘোষের বিরুদ্ধে হাওয়া গরম করেছিলেন দিলীপ। সেই সময় পাপিয়া চেষ্টা করেও তাঁকে দমাতে পারেননি। বরং তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কখনও আইএনটিটিইউসি, আবার কখনও পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন। এখন মেয়র গৌতম দেব ও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকারকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করছেন। এতেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কাউন্সিলাররা। তাঁরা এদিন পুরভবনে বৈঠক করেন। 
পরে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সঞ্জয় শর্মা বলেন, দিলীপের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ওঁর বক্তব্য আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না। তাই আমরা সমস্ত কাউন্সিলার ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি দলের কাছে জানাচ্ছি। দলের বর্ষীয়ান কাউন্সিলার রঞ্জন শীলশর্মা বলেন, বর্তমান মেয়রের আমলে শহরে উন্নয়নমূলক কাজে গতি এসেছে। তার পরেও অসৎ কোনও উদ্দেশ্যে মেয়রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন ওই এমআইসি। তাঁর দল বিরোধী এমন আচরণ মানা যায় না। ক্ষমতা থাকলে দলের সদস্য পদ ছেড়ে নেতা হয়ে দেখান। 
তাছাড়া উনি রাজবংশী সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ওই সম্প্রদায়ের উন্নয়ন হচ্ছে। 
কয়েক মাস আগে বোর্ড মিটিংয়ে মেয়র ও ডেপুটি মেয়রের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান দিলীপ। ওইদিন তাঁকে বোর্ড মিটিং থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এরপর প্রকাশ্যে মেয়র, ডেপুটি মেয়রের বিরুদ্ধে কুকথা বলায় তাঁকে শোকজ করেছিল তৃণমূলের রাজ্য কমিটি। তাতেও দিলীপের কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুরসভার পরিষদীয় কমিটিও। 
তৃণমূলের একাংশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বোর্ড মিটিং, মেয়র পরিষদ ও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে গরহাজির থাকছেন দিলীপ। তিনি ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাব নিয়ে নিজের মতো করে চললেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুরসভার পরিষদীয় কমিটি। কারণ সংশ্লিষ্ট কমিটির একাংশের আসকারাতেই বেলাগম দিলীপ। মেয়র অবশ্য বলেন, সকলেই তো দলের অংশ। তাই দলের অনুমতি ছাড়া কিছু করা যাচ্ছে না। 
‘বিদ্রোহী’ মেয়র পরিষদ সদস্য অবশ্য বলেন, বিনাকারণে বোর্ড মিটিং থেকে বের করে দেওয়ার পর কোনও কাউন্সিলার আমার পাশে দাঁড়াননি। তাই দলে ন্যায় বিচারের জন্য নিজের লড়াই নিজেই লড়ছি।        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ