নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বুধবার ও বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারেও থামল না পুলিশি অভিযান। পাথর ব্যবসায়ী নিজামুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের বেআইনি সাম্রাজ্য পুরোপুরি গুঁড়িয়ে অভিযান অব্যাহত বীরভূম জেলা পুলিশের। শুক্রবার দুপুর থেকেই সিউড়িতে টুলুর ভাগ্নে আপেল মোর্তাজার বাড়িতে হানা দেন তদন্তকারীরা। আপেল নিজেও পাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি মহম্মদবাজারের সেকেড্ডা গ্রামে টুলুর অন্যতম ম্যানেজার খোদা বক্সের বাড়ি এবং ভাঁড়কাটায় একাধিক খাদান ও ক্রাশারের মালিক সর্তাজ মোল্লার আস্তানাতেও শুরু হয় তল্লাশি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার রাতে। একটি ডাকাতির ছক বানচাল করতে গিয়ে সাত দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। তাদের জেরা করতেই জানা যায়, তাদের আসল লক্ষ্য ছিল দেউচায় টুলুর পরম বিশ্বস্ত আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি। সেখানে নাকি লুকানো রয়েছে কোটি কোটি টাকা ও সোনা। সেই তথ্যের ওপর ভর করে বুধবার ভোর সাড়ে তিনটেয় মিনারের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশের বিশেষ দল। টানা ২৯ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সেখান থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি আন্তর্জাতিক মানের সোনা।
বৃহস্পতিবার দিনভর সিউড়িতে টুলুর বিলাসবহুল 'দলিলা ভবন', মহম্মদবাজারের সোঁৎশালে পৈতৃক গ্রামের চারতলা বাড়ি ও পার্কিংয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বিকেল নাগাদ জীবধরপুরে টুলুর গোপন বাগানবাড়ি থেকে একটি গাড়িতে করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পাচারের চেষ্টা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িটি আটকে পুলিশে খবর দেন। গাড়ির চালককে আটক করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশ হানা দেয় টুলুর প্রধান হিসাবরক্ষক কৌসার মোল্লার বাড়িতেও। এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।