নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ধমানের জনবহুল স্থানে আভিজাত আবাসন। আর সেই আবাসনের অন্দরেই চলত পাক জঙ্গির কার্যকলাপ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক পাক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল রজ্য পুলিশের এসটিএফ। ধৃতের নাম হামিদ মন্ডল।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ধমানের জনবহুল স্থানে আভিজাত আবাসন। আর সেই আবাসনের অন্দরেই চলত পাক জঙ্গির কার্যকলাপ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক পাক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল রজ্য পুলিশের এসটিএফ। ধৃতের নাম হামিদ মন্ডল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঠমান্ডুতে বহুদিন থাকার পর এই জঙ্গি নেপাল হয়েই ভারতে প্রবেশ করে। এখানে এসেই ভারতীয় নথি অর্থাৎ আধার,ভোটার,তৈরি করে ফেলে হামিদ। প্রথমে হাওড়ার পিলখানায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ছিল সে। সেখানেই জামা কাপড় তৈরি কাজ করত সে। পরে বাড়ি উচ্ছেদের কারণে ছেড়ে চলে যায় বর্ধমানে। এখানেই পরে নিজের ব্যবসা শুরু করে। আর এই ব্যবসার আড়ালেই চলত জঙ্গি কার্যকলাপ।
এই জঙ্গির সঙ্গে পাক সেনা কর্তা ও আইএসআই আধিকারিকদের যোগযোগও মিলেছে। জঙ্গি নিয়োগ ও সংগঠন বাড়ানোর দায়িত্বে হামিদ পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীদের হয়ে কাজ করত। আরো জানা যায়, শেখ সাজ্জাদ গুল এর সংগঠনের মেম্বার এই হামিম। যিনি পেহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। এদের সঙ্গে পাকজঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদ এর যোগসূত্র আছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। বর্ধমান থেকে বসেই নিয়মিত পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত হামিদ । তার কাছ থেকে মোট ৬ টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
তদন্তে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। এসটিএফ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নিয়মিত নজর রাখতেন হামিদ । মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির লোকেশন ম্যাপও উদ্ধার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপরও কোনো হামলার ছক কষেছিল কি না এই জঙ্গি তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর জাল আরো অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে আছে কি না তাও তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার।
বর্ধমানে জঙ্গি গোষ্ঠীদের হদিস এটি প্রথম নয়, আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে বর্ধমান শহরে খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ২ জঙ্গির। গুরুতর জখম অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় আরও এক জন। ওই ঘটনায় উঠে আসে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নাম।