সংবাদদাতা, বোলপুর : টুলু মণ্ডল-কাণ্ডের তদন্তে এবার তার কর্মচারীকে আটক করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বোলপুরের ভুবনডাঙা এলাকা থেকে রাকিবুল শেখ ওরফে রাকিবকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন টুলু মণ্ডলের কাছে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে।
সংবাদদাতা, বোলপুর : টুলু মণ্ডল-কাণ্ডের তদন্তে এবার তার কর্মচারীকে আটক করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বোলপুরের ভুবনডাঙা এলাকা থেকে রাকিবুল শেখ ওরফে রাকিবকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন টুলু মণ্ডলের কাছে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ যৌথভাবে রাকিবের বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতেই সিউড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, টুলু মণ্ডলের ব্যবসা সম্পর্কে রাকিব অনেক কিছু জানেন। ব্যবসার লেনদেন, কারা যাতায়াত করতেন এবং কীভাবে কাজ চলত, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বুধবার, বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় জেলা পুলিশ। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ ২৮ কোটি টাকা ও ছোটো-বড়ো মিলিয়ে অন্তত ২৪টি সোনার বিস্কুট। তদন্তকারীরা এই বিস্কুট যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, ২৪ ক্যারেটের এই সোনা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের। এগুলি দুবাই ও সুইৎজারল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়েছিল। সেদিন রাত পর্যন্ত চলে টাকা গোনার কাজ। তদন্তে নেমে অফিসাররা আরো জানতে পারেন বেআইনি পাথর ও বালি খাদান চালিয়ে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ীর রোজগার ছিল দিনে এক কোটি টাকার উপর। সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডেও এই টাকায় পাথর খাদনের লিজ নিয়েছিলেন টুলু। এদিন টুলু মন্ডেলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আবার গতকাল সিউড়ির বিলাশবহুল বাড়িতে তল্লাশি চালায় তদন্তকারীরা। রাত ১ টা পর্যন্ত চলে সেই তল্লাশি অভিযান। সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা আর সামান্য সোনাদানা উদ্ধার করে পুলিশ। এবং তার এই বাড়িটিকে রাতেই সিল করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জাল কত দূর বিস্তৃত তা এখনো তদন্ত করছে অফিসাররা।