সংবাদদাতা, করিমপুর: প্রায় ছ’বছর আগে সরকারি বার্ধক্যভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন করিমপুরের আনন্দপল্লির বাসিন্দা দীপক পাল। কিন্তু, তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ঢোকেনি। সম্প্রতি অনলাইনে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামে বরাদ্দ বার্ধক্য ভাতার টাকা না কি অন্য এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী দীপকবাবু জানান, ২০২০ সালে তিনি সরকারি বার্ধক্যভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। দীর্ঘদিন কোনো টাকা না পাওয়ায় তিনি ধরে নিয়েছিলেন, তাঁর আবেদন অনুমোদিত হয়নি। তারপরে ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি আর খতিয়ে দেখেননি। সম্প্রতি তাঁর ভাইপো নির্মল পালের পরামর্শে অনলাইনে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করেন। তখনই তিনি জানতে পারেন, সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর নামে অনুমোদিত বার্ধক্যভাতার টাকা মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর-১ ব্লকের আলুগ্রাম এলাকার এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। দীপকবাবুর দাবি, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া বার্ধক্যভাতার টাকা ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। কীভাবে তাঁর নামে বরাদ্দ অর্থ অন্যের অ্যাকাউন্টে গেল, তা খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে এতদিন ধরে এই ধরনের ভুল কারও নজরে কেন এল না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। প্রশাসনের বক্তব্য, আবেদনপত্র, উপভোক্তার তথ্য, ব্যাংকের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি খতিয়ে না দেখে এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। অভিযোগকারীর দাবি সঠিক কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার পিছনে কোনো তথ্যগত ভুল, প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি প্রশাসনিক গাফিলতি রয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখা হবে। এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অর্থ বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।