সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ফাঁকা জায়গা অমিল। নেই ডোবা কিংবা জঙ্গল। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি বহুতল। পুজোয় এমন এলাকাতেই শোনা যাবে রয়াল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন! সেইসঙ্গে থাকবে হরিণের দৌড়, পাখির কলরব ও নদীর ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। এমন পুজো মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে সুভাষপল্লিতে। থিমের নাম-‘সুন্দরবনের রূপকথা’। পাশেই হাকিমপাড়ায় তৈরি হচ্ছে পুরীর জগন্নাথদেবের রথের আদলে পুজোমণ্ডপ। এখানে বসবে জমজমাট রথের মেলার আসর। থিমের নাম-‘দুর্গা দালানে রথের মেলা’। দুই পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের দাবি, এবার তাঁদের পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়বে। মণ্ডপগুলি সেরাদের তালিকায় থাকবে।
শিলিগুড়ি শহরের অভিজাত এলাকাগুলির মধ্যে সুভাষপল্লি অন্যতম। এখানে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের বসবাস। এখানে জেসি বোস রোডের দু’পাশে পাকা দালানবাড়ি। অধিকাংশই বহুতল। আশপাশে এক চিলতে ফাঁকা জায়গা নেই। এখানে ‘সুন্দরবনের রূপকথার’ আদলে পুজো মণ্ডপ গড়ে চমক দিতে চাইছে বান্ধব সংঘ। ইতিমধ্যে রাস্তার দু’পাশে বাঁশ, কাঠ, কাপড়, সুতা, কাগজ, পাপোশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বেশকিছু গাছ। যা ম্যানগ্রোভের জঙ্গলের রূপ নেবে বলে উদ্যোক্তারা জানান।
বান্ধব সংঘের সম্পাদক সৌমেন দে বলেন, এবার পুজোর ৭৯তম বর্ষ। এক টুকরো সুন্দরবন গড়ে তোলা হবে। এখানে থাকবে দু’টি বাঘের মডেল। লাইট ও সাউন্ডের মধ্য দিয়ে সেগুলির গর্জন শোনা যাবে। সেইসঙ্গে নদী, নৌকা চলার, হরিণের দৌড় ও কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হবে। এখানেই থাকবে মৌমাছি, মৌচাক, বাঁদর, সুন্দরবনবাসীর সংগ্রামের দৃশ্য। এজন্য কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশকিছু মানুষের মডেল ও মুখোশ সংগ্রহ করা হয়েছে। লাইট ও সাউন্ডের খেলার সমগ্র ভাবনা ফুটিয়ে তোলা হবে। এই কাজ করছেন শিল্পী বাপন ঘোষ।
এখানেই মণ্ডপে থাকবে মানানসই থিম প্রতিমা। ক্লাবের সম্পাদক বলেন, ইতিমধ্যে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এই প্রথম ব্যস্ততম শহরে এমন থিমের মণ্ডপ হচ্ছে। যা আট থেকে আশি সকলকে আকৃষ্ট করবে বলেই আশা করছি। পুরস্কারও পাবে।
পাশেই শহরের আরএক অভিজাত এলাকা হাকিমপাড়া। এখানেও ফাঁকা জায়গা বলে কিছু নেই। আকাশচুম্বি বহুতলের মাঝে এখানে পুরীর জগন্নাথ দেবের রথের আদলে মণ্ডপ গড়ছে অরুণোদয় সঙ্ঘ। বাঁশ, কাঠ, প্লাইবোর্ড, কাপড় দিয়ে তা তৈরি করা হচ্ছে। এখানেই রথের মেলার জমাটি দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হবে। খাজা, গজা, বাতাসা-কলা, তেলেভাজা প্রভৃতির দোকান গড়া হবে। ক্লাবের সম্পাদক সলিল চক্রবর্তী বলেন, এবার পুজোর ৬৪তম বর্ষ। এবার আমাদের নিবেদন দুর্গার দালানে রথের মেলা। মণ্ডপে থাকবে সাবেকি প্রতিমা। এই থিম সকলের প্রশংসা অর্জন করবে বলেই আশা করছি। • নিজস্ব চিত্র।



