নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দু’দিন আগেই রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু প্রাকৃতিক সম্পদ পাচার নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বালি, মাটি, পাথর পাচার ও সিন্ডিকেটরাজ বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন। মন্ত্রীর ঘোষণার পরেও বাঁকুড়ায় মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়নি। বাঁকুড়া-১ ব্লকের নন্দীগ্রাম এলাকায় দ্বারকেশ্বর নদের পাড় কেটে মাটি পাচার করছে মাফিয়ারা। মাঝরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ট্রাক্টরে চলছে মাটি পাচার। নদের পাড় কেটে সাফ করে দেওয়ায় ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রমাদ গুনছেন। যদিও মাফিয়াদের ভয়ে তাঁরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মাফিয়াদের পিছনে পুলিশের একাংশের মদত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বাঁকুড়া সদর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিশের একাংশ দ্বারকেশ্বরের বালি ও মাটি পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছে বলেও স্থানীয় গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন। বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন এলাকায় এভাবে পাচার চললে দূরবর্তী থানা এলাকায় কী হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয় বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার পিভিজি সতীশ জানিয়েছেন। জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, বেআইনি বালি, মাটি পাচার বরদাস্ত করা হবে না। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই বালি ও মাটি মাফিয়াদের রমরমা রয়েছে। বর্ষার কারণে জেলার বালি খাদানগুলি বন্ধ রয়েছে। ফলে চোরাগোপ্তা বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে। বাঁকুড়া সদর থানার সতীঘাট, লক্ষ্যাতোড়া, রাজগ্রাম সহ আশাপাশের এলাকায় গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদ থেকে দেদার বালি পাচার এখনো চলছে। আগে প্রকাশ্যে নদীগর্ভ থেকে বালি তুলে পাচার করা হত। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের জেরে পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। তাতে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়। ফলে এখন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত নদী থেকে বালি তুলে দুষ্কৃতীরা পাচার করছে। ট্রাক্টর, ভ্যান রিকশ, ইঞ্জিন ভ্যানে ওই বেআইনি বালি পাচার করা হচ্ছে। বালির পাশাপাশি দ্বারকেশ্বর নদ থেকে মাটি পাচারও রমরমিয়ে চলছে।
কাকভোরে নন্দীগ্রাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ট্রাক্টরে মাটি লোড করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে শ্রমিকরা দৌড়ে পালিয়ে যান। ট্রাক্টর নিয়ে চালকরাও একে একে চম্পট দেন। কেউ কেউ অবশ্য মাটি নিয়েই এলাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক্টর চালক বলেন, মালিকের নির্দেশে আমরা নদের পাড়ের মাটি কেটে পরিবহণ করছি। ট্রাক্টর মালিকের বলে দেওয়া জায়গায় মাটি সরবরাহ করা আমাদের কাজ। তারজন্য প্রতি ট্রিপে আমরা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকি। নদীপাড়ের মাটির চাহিদা বেশি। ইটভাটা থেকে জলাশয় ভরাট, সব জায়গাতেই আমাদের মাটি কাজে লাগে। ওইসব জায়গায় চোরাই মাটি ভোরের আলো ফোটার আগে ফেলতে পারলে বেশি টাকা পাওয়া যায়। রাতে অন্যান্য ঝক্কিও কম থাকে। এছাড়াও বাঁকুড়া শহর সংলগ্ন পুয়াবাগান এলাকায় নতুন নতুন বাড়িঘর হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত নীচু জায়গা ভরাট করার জন্য অনেকেই চড়া দামে মাটি কিনে থাকেন। মালিকরা নির্দিষ্ট জায়গায় ‘সেটিং’ করে কারবার চালায়। ফলে আমাদের পুলিশ বা প্রশাসন ছোঁয় না।