সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারে যে কোনও ভোটে নির্ণায়ক হয়ে ওঠেন চা শ্রমিকরা। অর্থাৎ শ্রমিকরা যে দলের দিকে থাকেন, ভোটে বাজিমাত করে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই লক্ষ্যেই চা বাগানগুলিতে সোমবার থেকে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করল তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের বাগান ইউনিটগুলিকে প্রতিটি বাগানে সদস্য সংগ্রহের অভিযানে ঝাঁপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার বীরপাড়ার পথের সাথী ভবনে শাসকদলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বৈঠকে বসেন। সেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে সোমবার থেকে জেলার বাগানগুলিতে সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ঝাঁপানোর সিদ্ধান্ত হয়। আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৪টি বাগানেই শ্রমিকদের মধ্যে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে।
এছাড়া, কোন বাগানে কত শ্রমিক, শ্রমিকদের কী সমস্যা, এসবই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নোট করতে বলা হয়েছে সংগঠনের ইউনিট পদাধিকারীদের। পরে সংশ্লিষ্ট বাগানগুলির শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে সংগঠনের তরফে শ্রমদপ্তর ও বাগান মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, সোমবার থেকে তিনদিন ধরে জেলার প্রতিটি বাগানে সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। ভোটের সঙ্গে এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের কোনও সম্পর্ক নেই।
শাসক দলের চা শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীরেন্দ্র বড়া ওরাওঁ বলেন, বাগানগুলিতে প্রতি বছর সংগঠনের সদস্য বাড়ানো একটি রুটিন অভিযান। আমরা দেখে নিই কোন বাগানের শ্রমিকদের কী কী সমস্যা রয়েছে। সেগুলি নোট করে তা সমাধানের লক্ষ্যে পরে শ্রমদপ্তর ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
উনিশের লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ারে প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে জিতেছিল বিজেপি। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার পাঁচটি বিধানসভা আসনের পাঁচটিতেই জিতেছিল পদ্মপার্টি। আবার গত লোকসভা ভোটে জিতলেও বিজেপির চা বলয়ের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামতে শুরু করে। সেবার আলিপুরদুয়ারে বিজেপির ভোট নেমে আসে মাত্র ৭৬ হাজারে। আর গতবছর মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাহুল লোহার ধরাশায়ী হন তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পোর কাছে।
এদিকে, ডুয়ার্সে আদিবাসীদের সবচেয়ে পরিচিত মুখ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলাও এখন তৃণমূলে। সব মিলিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, চা বলয়ে এখন দলের পালে হাওয়া বইছে। তাই বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে এবার চা শ্রমিকদের মধ্যে সদস্য বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল।
যদিও অভিযানকে কটাক্ষ করে বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা বলেন, চা শ্রমিকরা এখনও আমাদের পাশেই আছেন। এতে আখেরে তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না।