নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ছ’মাস পর গঠন জেলা কমিটি। তাও আবার সভাপতি ও সহ সভাপতি ছাড়াই কমিটি! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শিলিগুড়িতে এমন কমিটি ঘোষণা করেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরে এনিয়ে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। দলের একাংশের অভিযোগ, কোর কমিটির চেয়ারম্যান দলের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই এমন আজব কমিটি গড়েছেন। এই প্রথম দলের জেলা কমিটির সভাপতি ও সহ সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দু’টি তুলে দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কোর কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল অবশ্য বলেন, কোর কমিটিতে এবং দলের শীর্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোর কমিটির চেয়ারম্যান থাকায় এবারের কমিটিতে সভাপতি ও সহ সভাপতি করা হয়নি। এনিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি।
চেয়ারম্যান যাই বলুন না কেন, এমন জেলা কমিটি নিয়ে শিলিগুড়িতে জোড়াফুল শিবিরে চাপা বিরোধ শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় ছ’মাস আগে দলের জেলা সভানেত্রী পদ থেকে পাপিয়া ঘোষ ও চেয়ারম্যান পদ থেকে অলোক চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ব্যবসায়ী সঞ্জয় টিবরেওয়ালকে দলের চেয়ারম্যান করে ১৩ জনের কোর কমিটি গঠন করা হয়। তাতে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, প্রাক্তন সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ সহ শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছেন। ছ’মাস ধরে সংশ্লিষ্ট কমিটি চললেও দলে শৃঙ্খলা ফেরেনি বলে অভিযোগ। এমন প্রেক্ষাপটে এদিন ৭০ জনের জেলা কমিটি গঠন করা হল।
এনিয়ে দলের একাংশের বক্তব্য, দলে দার্জিলিং জেলা দু’টি ভাগে বিভক্ত। একটি পাহাড়, আরএকটি সমতল। সমতলে শিলিগুড়ি মহকুমা রয়েছে। এখানে বরাবরই সভাপতিকে মাথায় রেখে জেলা কমিটি গঠন করা হতো। এবারই প্রথম কমিটিতে কোনও সভাপতি নেই। ১৩ জনের কোর কমিটির চেয়ারম্যান দল নিয়ন্ত্রণ করতেই এমন অদ্ভুত কমিটি গড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, দলের শৃঙ্খলা বাড়বে না। বরঞ্চ কোন্দল বাড়বে। পুরনো যোগ্য ও দক্ষ নেতা-কর্মীদের একাংশ নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকবেন।
সভাপতিহীন সংশ্লিষ্ট কমিটির আয়তনও বড়। দলীয় সূত্রে খবর, জেলা কমিটি প্রায় ৭০ জনের। এরমধ্যে ৩০ জন সাধারণ সম্পাদক, আটজন সম্পাদক, বাকিরা সদস্য। এরবাইরে ন’জন স্থায়ী অতিথি সদস্য এবং পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্য, বরো চেয়ারম্যান, মহকুমা পরিষদের সদস্য, শাখা সংগঠন, ব্লক ও টাউন কমিটির সভাপতিদের অতিথি সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি নিয়ে মেয়র গৌতম দেব ও প্রাক্তন সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারম্যান বলেন, এবারের কমিটিতে যুব, মহিলা, নতুন ও পুরনো সর্বস্তরের নেতা-কর্মী রয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে চেয়ারম্যান ছাড়াও মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ, শিক্ষক সংগঠনের নেতা সুপ্রকাশ রায় উপস্থিত ছিলেন।