সংবাদদাতা, করিমপুর: ল্যাব টেকনিশিয়ান কিংবা প্যাথলজিস্ট ছাড়াই করিমপুরে বেড়ে চলেছে রক্ত পরীক্ষাকেন্দ্র। বাড়তি টাকা খরচ করে সেই রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন রোগী এবং তাঁর পরিবার। এমন অনেক রক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুললেন করিমপুরের সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, করিমপুরের অলিতে গলিতে রক্ত সংগ্রহের জন্য লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে কোনও প্যাথলজিস্টের আগাম স্বাক্ষর করা কাগজে রক্তের রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। কখনও জ্বর হলে বা রক্তের শর্করা পরীক্ষার রিপোর্ট ভুল দেওয়া হচ্ছে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। করিমপুরের অসীম বিশ্বাস বলেন, মাস খানেক আগে জ্বর হওয়ায় বাজারের একটি কেন্দ্রে রক্ত পরীক্ষা করিয়েছি। তাদের রিপোর্টে আমার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করার পর আমাকে বলা হয় আমার ডেঙ্গু হয়নি। হাসপাতালের ওষুধে আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছি। ল্যাবরেটরি থেকে রক্ত পরীক্ষার জন্য একদিকে যেমন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হল পাশাপাশি ডেঙ্গু হয়েছে বলে ক’দিন আতঙ্কে কাটাতে হয়েছে। করিমপুর বাজারের এক রক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রের মালিক বিভাস পাল বলেন, রক্ত পরীক্ষাকেন্দ্রে একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্যাথলজিস্ট রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশিকা অনুযায়ী রক্ত সংগ্রহের সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক জিনিস নিরাপদে সংরক্ষিত করতে মাসে প্রায় হাজার তিনেক টাকা বাড়তি খরচ হয়। সেই তুলনায় করিমপুর এলাকায় রক্ত পরীক্ষা করতে আসা রোগীর সংখ্যা অনেক কম। ফলে আমরা কোনও রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে সেই রক্ত পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠিয়ে দিই এবং সেখান থেকে রিপোর্ট এলে রোগীকে দেওয়া হয়। আর এক কেন্দ্রের মালিক দেবনারায়ণ দত্ত বলেন, ল্যাব টেকনিশিয়ান থাকলেও স্থায়ী ভাবে একজন প্যাথলজিস্ট রাখা সম্ভব নয়। তাঁর অনুমতি নিয়ে স্বাক্ষর কম্পিউটারে আপলোড করে রাখা হয় এবং রিপোর্টে সেই স্বাক্ষর সহ দেওয়া হয়। তবে, পরীক্ষায় কোনও জটিলতা থাকলে সেই রিপোর্ট প্যাথলজিস্টের কাছে পাঠানো হয়। যদিও এবিষয়ে সরকারি হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, যে কোনও প্যাথলজি কেন্দ্রে একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান ও প্যাথলজিস্ট অতি অবশ্যই থাকতেই হবে। তাদের অনুপস্থিতিতে কোনওভাবেই কোনও রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা এবং সেই রিপোর্ট দেওয়া বৈধ নয়। যে কোনও প্যাথলজি কেন্দ্রগুলির বৈধ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট লাইসেন্স আছে কিনা তা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত। এই লাইসেন্স করতে পলিউশন, ফায়ার সার্টিফিকেট ও ও ট্রেড লাইসেন্স অত্যন্ত জরুরি। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মণীষা মণ্ডল বলেন, বাজার থেকে কিটে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু হয়েছে বলে অনেকে হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে এলাইজা পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করার পর নেগেটিভ আসে। তারপর স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গ্রামে প্রচার করা হয়েছিল যে, কারও জ্বর হলেই হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু কি না নিশ্চিত হন। জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বাপ্পা ঢালী বলেন, এবিষয়ে মাঝে মাঝে নজরদারি চালানো হয়।



