Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

সময়বিহীন দ্বীপ

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।

সময়বিহীন দ্বীপ
  • ১০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নরওয়ে দেশটিকে যে ‘নিশীথ সূর্যের দেশ’ বলা হয় একথা তো কারও অজানা নয়। এখানে গ্রীষ্মে সূর্যদেব অস্তাচলে যান না মাসের পর মাস। আবার শীতে তিনি উদয় হওয়ার নামও করেন না। এমন জীবনেই অভ্যস্ত নরওয়ের বাসিন্দারা । তবু নিয়মের দাস হয়ে ঘড়ি ধরে জীবনযাপন করতেই হয় সকলকে। কিন্তু ২০১৯ সালে দেশের এক দ্বীপ সমারয়-এর লোকেরা ভাবল ঢের হয়েছে আর নয়। শুধুমাত্র নিয়ম আছে বলেই তার পালন করতে হবে, এর তো কোনও মানে নেই। অতএব প্রকৃতি অনুযায়ী জীবন ধারণ করতে শুরু করলেন তাঁরা। তোমরা ভাবছ সে আবার কেমন ধারার জীবনযাপন! বেশ তাহলে খুলেই বলি, এই দ্বীপে লোকেরা ঘড়ি ব্যবহার করেন না। সেই অনুযায়ী সময়ও গোনা হয় না এখানে। স্বয়ং সূর্যদেবই যখন সময়ের অবাধ্য তখন লোকেই বা তার পরোয়া করবে কেন? তাই ঘড়ির কাঁটা মাফিক ঘুম থেকে ওঠা বা শুতে যাওয়া কোনওটাই হয় না এখানে। আর হবেই বা কী করে? এখানে তো কোনও ঘড়িই নেই। তাই সূর্যের সঙ্গেই এই দ্বীপের বাসিন্দারা তাঁদের জীবন বেঁধে নিয়েছেন। গরমকালে যখন টানা দুই থেকে তিন মাস সুয্যিমামা থাকেন মধ্যগগনে, তখন এই দ্বীপবাসীরাও সব ধরনের বাইরের কাজ, আনন্দ উৎসব করে নেন। ঘুমের জন্য সেই কয়েক মাস আলাদা করে সময় রাখা থাকে না। আবার শীতে এর উল্টো নিয়মটাই পালন করা হয়। তখন সময় তোলা থাকে ঘুমের জন্য। এমনিতেও ভীষণ শীতে বাড়ি থেকে বেরনো যায় না। জল জমে যায়। বাড়ির সামনে, রাস্তাঘাটে বরফ জমে থাকে এক হাঁটু। ফলে এই সময় বাইরের কাজ প্রায় রাখেনই না কেউ। তখন বিশ্রামের সময়। খাবার দাবারও গ্রীষ্মেই সংগ্রহ করে জমিয়ে রাখা হয় ঘরে। শীতে তারই সদ্ব্যবহার করা হয়। পর্যটন শিল্পও গ্রীষ্মে ফুলে ফেঁপে ওঠে আর শীতে তা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ঘড়ির কাঁটার কাছে আত্মসমর্পণ না করে বরং প্রকৃতির কাছেই নিজেদের সঁপে দিয়েছেন সমারয় দ্বীপের বাসিন্দারা। আর প্রকৃতির মাঝেই খুঁজে পাচ্ছেন অপার আনন্দ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ