নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বর্ষার মরশুমেই ক্ষতিগ্রস্ত তিলপাড়া ব্যারাজের প্রাথমিক পর্যায়ের সংস্কারের কাজ শুরু হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু হতে পারে। তার আগে মঙ্গলবার রাজ্যের এক নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন। কীভাবে এই কাজ হবে, তা নিশ্চিত করতেই তাঁরা সরেজমিনে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেন। সেচদপ্তরের আধিকারিকদের কথায়, ড্যাম বিশেষজ্ঞ সহ রাজ্য সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনেই এই সংস্কারের কাজ শুরু হতে চলেছে। পরবর্তীতে বর্ষার মরশুম শেষ হতেই তোড়জোড়ে সম্পূর্ণরূপে সংস্কারের কাজ করা হবে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্ট অনুসারে সাতদিনের মধ্যে সংস্কারের কাজ শুরু হতে চলেছে। তার আগে এদিন নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা ব্যারাজ পরিদর্শন করলেন।
বর্ষার মরশুমে তিলপাড়া ব্যারাজ চিন্তা বাড়িয়েছে সেচদপ্তর সহ জেলা প্রশাসনের। ব্যারাজের সংস্কারের কাজ চলাকালীন লক গেট খুলে জল ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হতেই বিপত্তি বাধে। সংস্কারের নির্মাণ কাজ ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি ব্যারাজের একটি ‘ডিভাইড ওয়ালে’ ফাটল নজরে আসে। সেইসঙ্গে ডিভাইড ওয়ালের নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। তার জেরে ডিভাইড ওয়ালের ফাটল দিনের পর দিন বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ব্যারাজ পরিদর্শন করেছেন ড্যাম বিশেষজ্ঞ জুলফিকার আহমেদ সহ রাজ্য সেচদপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মনীশ জৈন। এছাড়াও রাজ্য সেচদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ারও ব্যারাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শন করেছেন। সেই সময় সিউড়িতে ব্যারাজের নকশা সামনে রেখে ম্যারাথন বৈঠক বসেছিল। পরবর্তীতে সোমবার কলকাতায় জরুরিকালীন বৈঠক বসেছিল। এরপরই এদিন ম্যাকিনটোস বার্নের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুতেই ক্ষতিগ্রস্ত ডিভাইড ওয়ালের নীচের অংশ ভরাট করাই মূল লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে ডিভাইড ওয়ালের নীচে তৈরি হওয়া গর্ত বোল্ডার দিয়ে ভরাট করা হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, স্টিলের খাঁচা কিংবা কাপড়ে বোল্ডার সাজিয়ে ডিভাইড ওয়ালের নীচে বসানো হবে। তাতে ডিভাইড ওয়ালে নতুন করে কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না।
ব্যারাজের ক্ষতিতে রাশ টানতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক জলশূন্য করার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। সেইসঙ্গে জেলা পুলিস ও প্রশাসনের তরফে ভারী যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা। বর্তমান সময়ে ব্যারাজের উপর থাকা সেতুর উপর দিয়ে ছোট চারচাকা গাড়ি সহ বাইক চলাচল করছে। যদিও গাড়ি চালক সহ বাইক আরোহীরা যথেষ্টই উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যারাজ সংস্কারের দাবিতে সুর চড়াতে শুরু করেছেন সকলেই।
মহম্মদবাজার ব্লকের শালুকার বাসিন্দা মহম্মদ লালু বলেন, ব্যারাজের উপর থাকা সেতুর উপর দিয়ে নিত্যদিনই চলাচল করতে হয়। বর্তমানে ব্যারাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও ভয় কাজ করছে। সিউড়ির পুরাতন লাইনের বাসিন্দা শেখ নাসিফ বলেন, চলাচলের ক্ষেত্রে ভয় লাগছে। কিছুটা হলেও আমরা আতঙ্কিত। অতিদ্রুত ব্যারাজটি সংস্কার করা প্রয়োজন। নিজস্ব চিত্র