Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাটলের পর উৎসুক বাসিন্দাদের ভিড়ে কার্যত ট্যুরিস্ট স্পট তিলপাড়া ব্যারাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেলফি, ভিডিও তোলা, উদ্বিগ্ন সেচদপ্তর

ক্ষতিগ্রস্ত তিলপাড়া ব্যারাজ যেন ক্রমেই পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠছে। নিত্যদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষজন এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। কার্যত ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের একাংশ ছবি তোলা থেকে শুরু করে ভিডিওগ্রাফিতে মজে উঠছেন।

ফাটলের পর উৎসুক বাসিন্দাদের ভিড়ে কার্যত ট্যুরিস্ট স্পট তিলপাড়া ব্যারাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেলফি, ভিডিও তোলা, উদ্বিগ্ন সেচদপ্তর
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ক্ষতিগ্রস্ত তিলপাড়া ব্যারাজ যেন ক্রমেই পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠছে। নিত্যদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষজন এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। কার্যত ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের একাংশ ছবি তোলা থেকে শুরু করে ভিডিওগ্রাফিতে মজে উঠছেন। অনেকে আবার সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিকরা যথেষ্টই উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। ব্যারাজের উপর উৎসুক মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকায় পুলিস-প্রশাসনের কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইতিমধ্যে ব্যারাজের উপরে থাকা সেতুকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিসের তরফে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেইসঙ্গে সেতুর প্রবেশপথেই বিজ্ঞপ্তি লাগিয়ে জনসাধারণের প্রবেশের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রয়েছে পুলিসি নজরদারিও। তবে কৌতূহলী মানুষ অবশ্য সেসবের তোয়াক্কা করছে না।

Advertisement

জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, সেতুর উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। অকারণে যাতে সেতুর উপর সাধারণ মানুষের ভিড় না জমে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতেই তিলপাড়া ব্যারাজের ডিভাইড ওয়ালে ফাটল নজরে আসে। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিলপাড়া ব্যারাজ থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার জেরেই এই ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে ডিভাইড ওয়ালের নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলত, ডিভাইড ওয়ালের একটা অংশ ক্রমশ নদীগর্ভে বসে যেতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে সেচদপ্তর বর্ষার মরশুমেই ব্যারাজের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শুরু করতে চলেছে। তার আগেই মঙ্গলবার রাজ্যের এক নির্মাণ সংস্থার আধিকারিকরা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন। বুধবার তাঁরা জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠক থেকেই সংস্কারের কাজের রূপরেখা নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাজের উপর চাপ কমাতে ইতিমধ্যে পুলিস ও প্রশাসনের তরফে ভারী যানচলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্পষ্ট করা হয়েছে, ব্যারাজের উপর থাকা সেতু দিয়ে ডাম্পার সহ লরি ও বাস চলাচল করতে পারবে না। জেলা পুলিস ও প্রশাসনের নির্দেশিকা জারির পর থেকে সেখানে ছোট চারচাকা গাড়ি ও বাইক চলাচল করছে। তবে চিন্তা বাড়িয়ে নিত্যদিনই সেতুর উপর কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়ছে। রীতিমতো পুলিস প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে উৎসুক মানুষ মোবাইল ফোন হাতে সেতুর উপরে পৌঁছচ্ছেন। কেউ ছবি তুলছেন। কেউ ভিডিও করছেন। কেউ আবার সেলফি তুলতেই ব্যস্ত থাকছেন। চলছে রিল তৈরির কাজও। স্বাভাবিকভাবেই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পুলিস ও প্রশাসনের কর্তাদের ঘুম উড়তে বসেছে।
মহম্মদবাজারের বাসিন্দা জয়ন্ত পাল আত্মীয়কে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাজ দেখতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, শুনেছিলাম ব্যারাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন সেটাই দেখতে আসি। আমার মনে হয় প্রশাসনের তরফে খুব তাড়াতাড়ি এই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু করা উচিত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ