নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ক্রমেই চিন্তা বাড়াচ্ছে তিলপাড়া ব্যারাজ। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্যারাজ থেকে অবিরাম জল ছাড়াতে চার ও পাঁচ নম্বর গেটের মাঝে ডিভাইড ওয়ালে ফাটল দেখা গিয়েছে। ডিভাইড ওয়ালের নীচ থেকে বালিমাটি সরে গিয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে গর্ত তৈরি হয়েছে। যা সেচদপ্তরের কর্তাদের ঘুম উড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে সেচদপ্তরের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ব্যারাজ পরিদর্শনে আসেন। জেলার সেচদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেন। পরে দুপুর নাগাদ বৈঠকে বসেন। অতিদ্রুত কীভাবে ডিভাইড ওয়ালের নীচের অংশ ভরাট করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিন ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে রাজ্য সেচদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস সেনগুপ্ত বলেন, অবস্থা ভালো নয়। সংস্কারের চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ফ্লোর থেকে বেড অনেকটাই নেমে গিয়েছে। সেটা ভর্তি করাটাই চ্যালেঞ্জ। তিলপাড়া ব্যারাজের স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। বিষয়টি অনুধাবন করেই ব্যারাজ সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেই কাজ শুরু হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্কার শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল। তবে বর্ষার মরশুমে কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ব্যারাজ সংস্কারের কাজ চলাকালীন বৃষ্টিপাতের জেরে ময়ূরাক্ষী নদী ফুলেফেঁপে ওঠায় সেচদপ্তর জল ছাড়তে বাধ্য হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে খবর, গত জুন মাসের ২৫ তারিখ থেকে এক নাগাড়ে জল ছাড়া হচ্ছে। আর তার জেরেই ব্যারাজের একাধিক জায়গায় থাকা ছোট ছোট ফাটল ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে সংস্কারের কাজও অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিন্তা আরও বাড়িয়ে ডিভাইড ওয়ালের নীচ থেকে বালি ও মাটি সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, গত জুলাই মাসের ২৯ তারিখের পরই এই ঘটনাটি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ভরা বর্ষায় কীভাবে সংস্কার করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে দ্রুত সেই কাজ সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত সেচদপ্তরের আধিকারিকরা।



