সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: উলটো রথের শোভাযাত্রা দেখতে বিষ্ণুপুরে জনজোয়ার দেখা যায়। আজ, শুক্রবারও ব্যাপক ভিড়ের আশা করছেন উদ্যোক্তারা। এদিন সন্ধ্যার পর শহরের কৃষ্ণগঞ্জ ও মাধবগঞ্জ থেকে পৃথক দুই রুটে রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরবে। তা সারারাত ধরে চলবে। নগর পরিক্রমা শেষে শনিবার সকালে দুই প্রভু নিজ নিজ মন্দিরে প্রবেশ করবেন। পরিক্রমার পথে ঢেলাদুয়ারে রাধালালজিউ ও মদনগোপালজিউ এই দুই দেবতার বছরে একবারই মুখোমুখি আসেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের তরফে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইসবাজারে টিনের বেড়া দেওয়া হবে।
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও অঞ্জলি সুগা বলেন, বিষ্ণুপুরে উলটো রথ উপলক্ষ্যে উদ্যোক্তা সহ রথের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠক করা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে রথের আনন্দ উপভোগ করতে পারে তার জন্য সমস্ত রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রথের রুট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে সিসি ক্যামেরার সাহায্যে নজরদারি চালানো হবে।
কৃষ্ণগঞ্জ আটপাড়া ষোলোআনা কমিটির সভাপতি রবিলোচন দে বলেন, সোজা রথের দিন থেকে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রভুর আরাধনা চলছে। প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক ও ভক্তিমূলক নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। অন্যান্যবারের মতো আজ সন্ধ্যার পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় চৌদাল, তাসাপাটি, চন্দননগরের আলোকমালা, বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি বাদ্যযন্ত্র থাকবে।
মাধবগঞ্জ ১১পাড়া ষোলোআনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দীপক দত্ত ও সঞ্জয় নন্দী বলেন, বিষ্ণুপুরের ঐতিহ্যবাহী রথ প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে চলে আসছে। উলটো রথের শোভাযাত্রা এলাকার মানুষের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। আজ সন্ধ্যায় মহাপ্রভুর নগর ভ্রমণে চৌদাল, মাটির রাধাকৃষ্ণের মূর্তি ছাড়াও চন্দননগরের সুসজ্জিত আলোকমালা এবং হরেক বাদ্যযন্ত্র সহযোগে শোভাযাত্রা হবে।



