নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: বেলপাহাড়ীতে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর এবার লালগড়ে আদিবাসী গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটল। লালগড়ের কাঁটাপাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০ আগস্ট গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতা গৃহবধূ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দ্র সরেন, সুজল হেমব্রম, মঙ্গল সরেন, নবীন মুর্মু এবং ঠাকুরদাস টুডুকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। আজ, শুক্রবার অভিযুক্ত পাঁচজনকে ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধুর সঙ্গে কয়মা এলাকার একটি ছেলের সঙ্গে ফোনে বন্ধুত্ব হয়েছিল। পরে দু'জনে লালগড় বাজারে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘটনার দিন লালগড়ে দু'জনে হোটেলে দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়া করেন। বাড়ি ফেরার পথে পাড়াতুতো দাদা রাথ দলুইয়ের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। সে বাইকে করে গৃহবধূকে গ্ৰামে ফিরিয়ে দেবে বলে জানায়। এরপর রাথ বাইকে চাপিয়ে কাঁটাপাহাড়িতে তাঁর পিসির ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পিসির ঘরেই তাঁকে থাকতে বলে। পরে ঝাড়গ্রাম থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ি পৌঁছে দেবে বলে জানায়।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাথের পরিচিত ৭ জন যুবক গৃহবধূকে নিকটবর্তী ছোট পেলিয়া জঙ্গল নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। মুখ খুললে খুন করার ভয়ও দেখায়। স্থানীয় এক যুবক ওই গৃহবধূকে জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। সুস্থ হলে পরের দিন গৃহবধূর বাড়িতে পৌঁছে দেয়। গত বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূ লালগড় থানায় অভিযোগ জানান। সূত্রের খবর, ধুলাগড় থেকে অভিযুক্ত রাথ দলুইকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর গৃহবধূ বিবাহ বিচ্ছিন্না। তাঁর একটি পাঁচ বছরের মেয়েও রয়েছে। লালগড় থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।