নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যরাতে উত্তপ্ত কালীঘাট। সেই ঘটনায় এবার আইনি পথে নামল লালবাজার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হামলা, রাস্তা আটকে বিক্ষোভ ও পুলিশকে আক্রমণ সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল শুক্রবার রাতের ঘটনায়। তার জেরে মোট ৪টি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করল কালীঘাট থানা। মমতা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত পরিচয় বিজেপি কর্মী -সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। পালটা তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে এক মহিলা বিজেপি কর্মী মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন। সেই মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীঘাট থানা।
শুক্রবার রাতে সাংসদের জন্মদিন পালনকে কেন্দ্র করে তাঁর বাড়ির সামনে মমতা তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এলাকায় ১৬৩ ধারা লাগু থাকা সত্ত্বেও সাংসদের বাড়িতে ইট বৃষ্টি চালায় অভিযুক্তরা। জখম হন কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক। ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে লাগানো পোস্টার। দু’পক্ষের বিবাদে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দাবি, গোটা ঘটনায় নিরব দর্শক ছিল পুলিশ। ১৬৩ ধারা লাগু থাকা সত্ত্বেও সেখানে বেআইনি জমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন ঠেকাতে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে।
এরপরেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ কড়া পদক্ষেপ নেয় লালবাজার। শনিবার রাতের মধ্যেই চারটি এফআইআর রুজু করে কালীঘাট থানা। পুলিশ সূত্রের খবর, এরমধ্যে পুলিশের তরফে দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রথমত, ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করে রাস্তা আটকে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য খোদ সাংসদের বিরুদ্ধেই একটি মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে, উর্দিধারীকে চড় মারার অভিযোগে আরো একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে থানা। যদিও সেই মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের বচসা চলাকালীন এক মহিলাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। তার তদন্তে রাতভর বন্দর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। তিন অভিযুক্তকে একবালপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম, মহম্মদ তৌকির আলম, মহম্মদ ইরশাদ ওরফে টিপু ও শ্রীদীপ দাস। পুলিশের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কর্মী। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে অভিষেক লেখেন, ‘যে দুষ্কৃতীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল, তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ যাঁরা হামলায় আহত হয়েছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একসময় যে কলকাতা পুলিশকে রয়্যাল স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড-এর সঙ্গে তুলনা করা হত, তারা এখন রয়্যাল স্ক্যান্ডাল স্কোয়াডে পরিণত হয়েছে!’
শুক্রবারের ঘটনায় অভিষেক অভিযোগ তুলেছিলেন, ‘দুই বিজেপি সমর্থক পুলিশকে চড় মেরেছে।’ সমাজমাধ্যমে সেই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত সেই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের দাবি ছিল, কয়েকদিন ধরেই তাঁর বাড়ির সামনে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনকে নিয়মিত ঘোরফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংসদের স্পিকারকেও তা জানিয়েছিলেন। শুক্রবার রাতে হামলার পর সাংসদ অজ্ঞাত পরিচয়ের বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন কালীঘাট থানায়। তার ভিত্তিতে একটি পৃথক মামলা রুজু করেছেন তদন্তকারীরা।



