নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারিভাবে বাজি ফাটানোর সময়সীমা বেড়েছে। প্রথমে ছিল রবিবার রাতে দু’ঘণ্টা। পরে তা হয়েছে শনি ও রবিবার সকাল-বিকাল মিলিয়ে তিন ঘণ্টা। তবে এই সময় সরকারি পরামর্শ ছিল সবুজ বাজি ফাটানোর। সবটাই খাতায়-কলমে। কারণ, প্রতি বছরের মতো এবারও সব নিয়মের তোয়াক্কা না করে দেদার শব্দবাজি ফাটল শহর ও শহরতলিজুড়ে। কালীপুজোর সন্ধ্যায় শহরবাসী মোটামুটি স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ, রাত বাড়তেই চেনা পরিচিত শব্দবাজির দাপট। আকাশে এদিন ফানুসও দেখা গিয়েছে। তবে সেই ফানুস ‘যথাযথ অনুমতি’ নিয়ে ওড়ানো কি না, জানা যায়নি।
শব্দবাজির প্রভাব যেমন বেড়েছে, তার সঙ্গে কিন্তু কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বরের মতো মন্দিরে ভক্তের সমাগমও বেড়েছে। ঠনঠনিয়া, টালিগঞ্জ করুণাময়ী, লেক কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়িতেও ভক্তদের ঢল নেমেছিল এদিন। কালীপুজোর দিন উত্তর কলকাতার ফাটাকেষ্ট, আমহার্স্ট স্ট্রিট চত্বরেও ঠাকুর দেখার ভিড় চোখে পড়েছে। তবে প্রশাসনের মূল মাথাব্যথা শব্দবাজি। সে কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে ৬ তারিখ থেকেই কন্ট্রোল রুম হয়েছিল। রবিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকের পরিবেশ ভবনে গিয়ে দেখা গেল, আধিকারিকরা সেখানেই ব্যস্ত। অভিযোগ এলেই তা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি জায়ান্ট স্ট্রিনে ফুটে উঠছে সারা বাংলার বাতাসের দূষণের সূচক, শব্দ দূষণের মাত্রা। এক আধিকারিকের কথায়, আমরা এই বছর ১০টি ফোন লাইন চালু রেখেছি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নবান্নতে রিপোর্ট যাচ্ছে। পাঁচটি মোবাইল টিম কেন্দ্রীয়ভাবে টহলে রয়েছে। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৪৯.১ কেজি বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৮ জনকে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ‘কালীপুজো সহ বিভিন্ন উত্সবের দিনে জলের সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে স্প্রে করা হবে। এর ফলে বাতাসের ধূলিকণা যেমন কমবে, তেমনই গোলাপ জলের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েবে।’ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য কলকাতা ও শহরতলি এলাকায় কার্যত কান পাতা দায়। মুহুর্মুহু শেল ও বোমা ফাটার শব্দ। রাতে এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও।
শহরের বিভিন্ন আবাসনে বিশেষভাবে নজর রেখেছিল দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এক আধিকারিকের কথায়, আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। তার পরেও দক্ষিণ কলকাতার বহু আবাসনে দেদার বাজি ফেটেছে বলে খবর। কন্ট্রোল রুম খোলা হয় পরিবেশ কর্মীদের সংগঠন ‘সবুজ মঞ্চ’র তরফেও। সেখানে রবিবার রাত পর্যন্ত ১৯টি অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিকট শব্দে মাইক বাজানোর অভিযোগও এসেছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে। জানা গিয়েছে, রাত ১১টা পর্যন্ত দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে শব্দবাজি নিয়ে ৪০টি অভিযোগ এসেছে। গড়িয়াহাট, ডোভার লেন, জোকা, বাগুইআটি, সোনারপুর, হাওড়া, শিলিগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুর থেকে শব্দবাজির অভিযোগ মিলেছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য বলছে, রবিবার রাত ১২টায় কলকাতায় বাতাসে দূষণ সূচক ছিল ১৫৯। হাওড়ায় ছিল ১৭৭ ও বারাকপুরে ১৫১। ‘সবুজ মঞ্চ’র তরফে শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত বলেন, ‘ফুলবাগানে শিশু হাসপাতালের দু’পাশে ভয়ানক অবস্থা। শব্দবাজি থামছে না।’ প্রশাসন থেকে পরিবেশকর্মী, প্রত্যেকেরই আশঙ্কা—আসল পরীক্ষা আজ, সোমবার।



