দক্ষিণেশ্বরে ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, নৈহাটিতে দর্শনার্থীদের জনস্রোত
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লক্ষাধিক ভক্ত সমাগমে উপচে পড়ল কালীক্ষেত্র দক্ষিণেশ্বর। পুণ্যার্থীদের লম্বা লাইন একদিকে দক্ষিণেশ্বর আইল্যান্ড, অন্যদিকে আদ্যাপীঠ মন্দির ছাড়িয়ে যায়। নৈহাটির বড়মা মন্দিরেও সকাল থেকে জনপ্লাবন শুরু হয়। গঙ্গা থেকে দণ্ডিকাটার দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। একইভাবে উত্তর শহরতলি ও বারাকপুরের প্রতিটি স্থায়ী কালী মন্দিরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। রাত যতই বেড়েছে প্রতিটি মন্দিরে পুজো দেওয়ার লাইন ততই দীর্ঘ হয়েছে। শুধু স্থায়ী মণ্ডপ নয়, থিমের মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনে দক্ষিণ দমদম সহ প্রতিটি জায়গায় ভিড় উপচে পড়ে। ভোর পর্যন্ত প্রতিটি প্যান্ডেলে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

Advertisement

রবিবার ভোরে মঙ্গলারতি দিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণী মায়ের বিশেষ পুজো শুরু হয়। মায়ের মনমোহিনী রূপ দর্শনের জন্য আগের রাত থেকে দীর্ঘ লাইন পড়েছিল। বেলা যত বেড়েছে সেই লাইন ততই দীর্ঘ হয়েছে। রাতে মায়ের বিশেষ পুজোর সাক্ষী থাকতে ভক্তদের ভিড় কার্যত ভেঙে পড়ে। রাতভর নাটমন্দিরে বসে মায়ের পুজো, আরতি ও হোম দেখেন ভক্তরা। যজ্ঞ ও মঙ্গলারতির পর্ব সেরে আজ সোমবার ভোর ৪টেয় মন্দিরের দরজা সাময়িক বন্ধ করা হবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে। ভিড়ে আটকে থাকা দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে গোটা চত্বরে একাধিক সুবিশাল জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে দেবীর পুজো ও আরতি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন মন্দির চত্বরে পুলিশি নিরাপত্তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণেশ্বরের মতো সকাল থেকে বরানগরের সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি, জয় মিত্র কালীবাড়ি, বিরাটি কালীবাড়ি, নিমতা কালীবাড়িতে ভিড় উপচে পড়ে। বরানগরের কালীতলা মাঠের কালীপুজো মণ্ডপে ভক্তদের জোয়ার নামে। মানত পূরণ হওয়ায় মায়ের কাছে পুজো দেন হাজার হাজার ভক্ত।
অন্যদিকে, সোনা আর রুপো মিলিয়ে প্রায় ১ কুইন্টাল ১০ কেজির বিপুল অলংকারে সাজানো হয়েছে নৈহাটির বড়মাকে। ১০৩তম বর্ষে পদার্পণ করা এই পুজোকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই কার্যত জনসমুদ্র দেখা যায়। গত দু’দিনে পুজো উপলক্ষ্যে প্রায় এক লক্ষ মানুষ দণ্ডি কেটেছেন বলে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি। ভিড়ের চাপে পুজো প্রাঙ্গণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের এদিন হিমশিম খেতে হয়। 
​পুজো কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভক্তদের অকৃপণ দানে প্রতিবছর বড়মার অলংকারের বহর বাড়ছে। এবার যুক্ত হয়েছে নতুন সীতাহার ও হিরে-চুনি-পান্না দিয়ে তৈরি অপূর্ব টিপ। প্রতিমার সোনার চোখ বিসর্জনের সঙ্গে জলে যাওয়ার যে চিরাচরিত প্রথা রয়েছে, এবারও সেই ধারা অক্ষরে অক্ষরে বজায় থাকবে।
স্থায়ী মণ্ডপের মতো দক্ষিণ দমদম, বরানগর, নিমতা, বারাকপুর, নৈহাটি, শ্যামনগর সহ শহরতলির বিভিন্ন থিমের মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ে। রাতভর মণ্ডপ দর্শনের পাশাপাশি খাবারের দোকানেও ভিড় উপচে পড়ে।