ফরিদপুর থেকে ঠিকানা বদলে বেলঘরিয়ায় জাঁক অটুট পোদ্দারবাড়ির পুজোয়
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়ার নন্দননগরে পোদ্দারবাড়িতে বিশেষ কালীপুজোর আয়োজন হল এবারও। রবিবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় এই পুজোকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। এখানে পাথরে তৈরি মূর্তির পুজো বছরভর ধরে চললেও, কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজো হয়। ১৭১ বছর পেরিয়েও সেই পুজোর জাঁকজমক এখনও অটুট।

Advertisement

গত কয়েক দশক ধরে প্রস্তর মূর্তিতে পুজো হলেও, আগে মাটির প্রতিমা তৈরি করা হত, জানালেন পরিবারের অন্যতম সদস্য টগরচন্দ্র পোদ্দার। তাঁর কথায়, আমাদের পরিবারের শ্যামাপুজো শুরু হয় ১২৬৩ বঙ্গাব্দে, অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের পালং থানার অন্তর্গত ধানুকা গ্রামে। দেশভাগের পর যখন পরিবারের সদস্যরা এপার বাংলায় চলে আসেন, তখন ঠিকানা বদল হয় পুজোরও। ভারত স্বাধীন হওয়ার বছর, অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকে সেই পুজোর আয়োজন করা হত নদীয়ার শান্তিপুরে। পরবর্তীকালে পরিবারের সদস্যদের হাত ধরে সেই পুজো চলে আসে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে এবং তারও পরে হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার কাঁঠালিয়ায় শুরু হয় পুজো। এরপর ১৩৯৬ বঙ্গাব্দে বাবা পরেশচন্দ্র পোদ্দার নন্দননগরে সেই পুজো চালু করেন বলে জানিয়েছেন টগরবাবু। তিনি বলেন, আমার বাবার মৃত্যুর পর আমরা পুজোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছি। এক সময়ে এই পুজোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রতি বছর বিজয়া দশমীতে মা দুর্গা যখন কৈলাসে পাড়ি দিতেন, তারপরের দিন, অর্থাৎ একাদশীতে, নিরঞ্জনের পর রাখা গতবারের কালীপ্রতিমার কাঠামোতেই নতুন মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হত। সেই মূর্তির পুজো হত দীপাবলিতে। মূর্তি রাখা হত বছরভর। নিত্যপুজো হত তখনও। সেই রীতি এখন বদলেছে, জানান টগরবাবু। তিনি বলেন, এখন মাটির প্রতিমা পুজো হয় না। এখন শ্যামা মায়ের প্রস্তরমূর্তি তৈরি হয়েছে। সেই মূর্তিই এখন নিত্যপুজো পান আমাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। দীপাবলির অমাবস্যায় বিশেষ পুজো করি আমরা। এবারও সেই রীতি পালিত হয়েছে। তবে আমাদের এই পারিবারিক পুজো ঘিরে এলাকাবাসীর আবেগ যথেষ্ট। বহু মানুষ আসেন পুজোয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।