নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গগনচুম্বী থিমের মণ্ডপ। কোথাও আবার প্রতিমা দেখতেও ঘাড় বাঁকাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। অভিনব থিমে সেজে উঠেছে সল্টলেক, নারায়ণপুর ও রাজারহাটের অসংখ্য কালীপুজোর মণ্ডপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং উদ্বোধন করে গিয়েছেন। তাই এবার কোথাও কোথাও বাড়তি আয়োজন। চোরবাগানের মতো দুর্ঘটনা যাতে কোনোভাবে না ঘটে, তার জন্য ভিড় নিয়ন্ত্রণে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিধাননগর কমিশনারেট। পুলিশ কমিশনারসহ পদস্থ আধিকারিকরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সেই সঙ্গে নিষিদ্ধ শব্দবাজি রুখতেও অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শনিবার পর্যন্ত বিধাননগর কমিশনারেটে প্রায় ১০০০ কেজি নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করেছে।
নারায়ণপুরের লালকুঠিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়ের নেতাজি সংঘের কালীপুজো। এবার সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ, পুজোর ৫০তম বর্ষ। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণও করেছিলেন। যদিও তাঁর পুজোর উদ্বোধনে আসেননি মুখ্যমন্ত্রী। নারায়ণপুরেই পল্লিশ্রী সংঘের পুজো এবার ৭৫ বছরে পড়েছে। গত ৬ নভেম্বর ওই পুজোর উদ্বোধন করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পল্লিশ্রীতে এখন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। অভিনব থিম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। বাংলার সমস্ত প্রাচীন হস্তশিল্পকে মণ্ডপের ভিতর মূর্ত করে তোলা হয়েছে।
নারায়ণপুরের প্রগতি সংঘের পুজো এবার ৫৮ বছরে পড়ল। ‘অরণ্য গর্ভে আদ্যাশক্তি’ থিমে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। মাঠের মাঝখানে বিশাল মণ্ডপ। ভিতরে ঢুকলে মনে হবে কোনো অরণ্যের ভিতর ঢুকে পড়েছেন। দেওয়াল, পুরানো মন্দির। সেখানে দেওয়ালে খোদাই করা বিগ্রহ ও ভাস্কর্য। একেবারে ভিতরে জঙ্গলের মধ্যে মন্দির। সেখানেই বিরাজ করছেন মা কালী। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বাপ্পা বিশ্বাস বলেন, ‘এবারের থিম দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে। ভালো ভিড় হচ্ছে। পুলিশের গাইডলাইন মেনে আমরা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছি।’ বাগুইআটির কৃষ্ণপুর বারোয়ারিতলা রাজরাজেশ্বরী স্পোর্টিং ক্লাবের ৫২তম বর্ষের কালীপুজোও আড়ম্বর সহকারে উদযাপিত হচ্ছে। এবার সল্টলেক জি সি ব্লকে তৈরি হয়েছে মা কালীর ৩০ ফুট উচ্চতার প্রতিমা। তা দেখতে ভিড় জমছে। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করে গিয়েছেন এই পুজো।



