সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ৷ মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ধস নেমেছে সেখানকার একাধিক জেলায়। একাধিক প্রাণহানি হয়েছে। কাটোয়া শহরের তিন পর্যটকের দু' দিন ধরে কোনও খোঁজ মিলছে না৷ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা। বুধবার সন্ধ্যেয় তিন পর্যটকের পরিবার দ্বারস্থ হয়েছেন কাটোয়া থানার।
ওই পর্যটকদের সঙ্গে ২৫ আগস্ট সন্ধেয় শেষবারের জন্য তাঁদের যোগাযোগ হয়েছিল৷ তখন ওই পর্যটকরা হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায় গিয়েছিলেন৷ তারপর সেদিন রাত থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যায়নি৷
কাটোয়া শহরের বাসিন্দা নিরুপম বিশ্বাস (৫৩), দীপক দাস (৪৬) ও মিঠুন কুণ্ডু (৪৬) তিন বন্ধুর খোঁজ মিলছে না হিমাচল প্রদেশে।
হিমাচলের কিন্নর, হামিরপুর, চাম্বা, বিলাসপুর, কাংড়া, কুল্লু, মান্ডি, সিমলা, সোলান, উনা, সিরমোরে কয়েকদিন ধরেই ভারী বৃষ্টির জন্য বিপর্যস্তু হয়েছে৷ কাটোয়ার তিন বন্ধুর মধ্যে দীপক দাসের দু' দিন আগে তাঁর স্ত্রী চিন্ময়ী দেবীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়৷ এদিন তাঁর পরিবার জানান, দীপকবাবু বলেছিলেন তাঁরা একটি সাদা রঙের গাড়িতে চাম্বা জেলায় যাচ্ছেন৷ রাস্তায় প্রচুর ধস নেমেছে৷ সেদিনের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না৷
এদিন দীপক দাসের ছেলে পীযুষ দাস বলেন, বাবা সহ তাঁর তিন বন্ধু ২২ আগস্ট কাটোয়া থেকে হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু ২৫ তারিখ রাত থেকে তাঁদের আর কোনও খোঁজ মিলছে না৷ আমরা চিন্তায় রয়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজনেরই বাড়ি৷ প্রত্যেকেই ব্যবসা করেন৷ নিরুপম বিশ্বাস এর স্ত্রী সবিতা বিশ্বাস ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার৷ এদিন তাঁর দাদা নিখিল কুমার বিশ্বাস বলেন, ভাইরা বেড়াতে গিয়ে এভাবে নিখোঁজ হবে ভাবতে পারছি না৷ সেখানে ধস নেমে বিপর্যস্ত হয়েছে টিভিতে দেখছি৷ এখন খুব চিন্তা হচ্ছে৷ আমরা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছি৷ পুলিসকেও বলছি খোঁজ নেওয়ার জন্য। এদিন নিখোঁজদের পরিবারের এক সদস্য জানান, বাড়িতে সব কান্নায় ভেঙে পড়েছে৷ কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না৷