সংবাদদাতা,বোলপুর: ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েও উচ্চশিক্ষার বাধা কাটছে না বোলপুর নিচুপট্টি নীরদ বরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন কৃতীছাত্রর।পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থাই তাঁদের উচ্চশিক্ষার পথেবাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই তিনকৃতীরনাম সুদীপ্ত হাজরা, সোহন দাস ও অঙ্কুর দাস। তাঁদের আশা, সরকারি সাহায্য পেলে ভবিষ্যতের স্বপ্নপূরণ করতে পারবেন। স্কুলের সার্বিক ফলাফলের পাশাপাশি এই তিন দুঃস্থ মেধাবীর কৃতিত্বে গর্বিত স্কুল কর্তৃপক্ষ। এঁদের উচ্চশিক্ষায় পড়াশোনার খরচ বহনের জন্য যদি কেউ এগিয়ে আসেন তাহলে এই কৃতীরা আগামীতে বোলপুরের নাম উজ্জ্বল করবে বলেই আশা করছেন স্কুলের শিক্ষকরা।
তিনজনের মধ্যে সুদীপ্ত হাজরা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। উচ্চমাধ্যমিকে এবার তিনি নজরকারা ফল করেছেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৬০ অর্থাৎ ৯২ শতাংশ পেয়েছেন তিনি। তাঁর বাড়ি বোলপুরের নায়েকপাড়া কামারপুকুরে, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার এলাকায়। বাবা দেবকুমার হাজরা পেশায় গৃহশিক্ষক। সুদীপ্ত বাংলায় ৯৭, ইংরেজি ও ফিজিক্সে ৯১, অঙ্কে ৮৭, কম্পিউটার সায়েন্সে ৯৪ ও কেমিস্ট্রিতে ৭৮ পেয়েছেন। জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা সুদীপ্তর। ভবিষ্যতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। পড়াশোনার পাশাপাশি গল্পের বই পড়া ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি তাঁর পছন্দের বিষয়।
অন্যদিকে, কলা বিভাগে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে ওই স্কুলেরই সোহন দাস। সোহনের প্রাপ্ত নম্বর ৪৫১। শতাংশের বিচারে ৯০.২০। তাঁর বাড়ি বোলপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপট্টি সংলগ্ন ইন্দিরাপল্লি এলাকায়। বাবা বুদ্ধদেব দাস দোকানে দোকানে ইলেকট্রনিক্সের সামগ্রী সরবরাহ করেন। সোহন বাংলায় পেয়েছেন ৯০, দর্শনে ৯৬, ইতিহাসে ৯৫, ইংরেজিতে ৮৩, এডুকেশনে ৮৭। উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বভারতীর চীনা ভবন থেকে পড়াশোনা করতে আগ্রহী তিনি। তার জন্য তিনি কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্টের (সিইউইটি) প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতের শোভনের ইচ্ছা চীনা ভাষায় অনুবাদকের কাজ করতে। তবে স্বপ্ন পূরণে তার বড় বাধা পারিবারের আর্থিক সমস্যা।
এই সাফল্যের তালিকায় তৃতীয় নামটি অঙ্কুর দাসের। তিনিও ৯০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪৫০। সোহনের কাছাকাছিই বাড়ি অঙ্কুরের। বাবা সন্তু দাস ছোট একটি নটকোনার দোকানের মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। অঙ্কুর কলা বিভাগের ছাত্র। তিনি বাংলায় ৯২, ইংরেজিতে ৭১, সংস্কৃতি ৯৪, দর্শনে ৯৫, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৭৬ ও ইতিহাসে ৯৩ পেয়েছেন। পড়াশোনার ফাঁকে গল্পের ও কবিতার বই পড়তে ভালো লাগে অঙ্কুরের। কলা বিভাগের ছাত্র অঙ্কুরের প্রিয় বিষয় সংস্কৃত। তিনি এই বিষয়েই পড়াশোনা করে অধ্যাপক হতে চান। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপন হালদার বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট থাকলেও কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিকে তিন কৃতি ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধু আর্থিক কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই মেধাবী ছাত্রদের প্রতি সরকার যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে তারা সমাজের সম্পদ হয়ে উঠবে।