সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবার পাশাপাশি তরাই-ডুয়ার্সের দু’জায়গায় লেপ্টোস্পাইরোসিস আক্রান্তের সন্ধান মিলল। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর পর্যন্ত লেপ্টোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবার পাশাপাশি তরাই-ডুয়ার্সের দু’জায়গায় লেপ্টোস্পাইরোসিস আক্রান্তের সন্ধান মিলল। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার দুপুর পর্যন্ত লেপ্টোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, এদের মধ্যে একজন শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা তারবান্দা এলাকার বাসিন্দা। আর একজনের বাড়ি ডুয়ার্সের মেটেলিতে। তৃতীয় ব্যক্তি রাজগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা।
লেপ্টোস্পাইরোসিস নিয়ে বেলাকোবা সহ রাজগঞ্জ ব্লকের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসেছে। আরও দুই জায়গায় এই সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ অরুণাভ সরকার সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হতে মানা করেছেন। তিনি বলেন, লেপ্টোস্পাইরোসিস সংক্রমণ নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে মুরগি বা মুরগির খামারের কোনও সম্পর্ক নেই। মূলত ইঁদুর থেকেই এর সংক্রমণ ঘটে থাকে। বর্ষাকালে খেতে থাকা গর্তে জল ঢুকে যায়। সেখান থেকে ইঁদুর বেরিয়ে আসে। জমা জলে ইঁদুর মূত্র ত্যাগ করে। গর্তে থাকা মূত্রও খেতের জমা জলে মিশে যায়। সেই সংক্রমিত জল যদি কারও হাত-পায়ের কোনও ক্ষত স্থান, চোখে ও মুখে লাগে তার থেকেই লেপ্টোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ। আক্রান্ত এক ব্যক্তির থেকে আর এক ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হন না। এ কারণে বর্ষাকালে অনেক জায়গাতেই লেপ্টোস্পাইরোসিসের সংক্রমণ দেখা দেয়। কৃষি প্রধান এলাকাতেই বেশি
দেখা দেয়।
হাসপাতাল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, মানব দেহে এই ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার পর প্রধান লক্ষ্য থাকে লিভারকে আক্রমণ করা। তারপর তা কিডনি সহ অন্যান্য অর্গানের ক্ষতি করে। সময়মতো চিকিৎসা করালে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। ইঁদুর ছাড়াও ঝোপজঙ্গলে থাকা অন্যান্য স্তন্যপায়ী সংক্রমিত জন্তুর থেকেও লেপ্টোস্পাইরোসিসের সংক্রমণ ছড়ায়। শহর এলাকায় বন্যা হলে মূলত ইঁদুর বাহিত এই সংক্রমণের প্রকোপ দেখা দেয়। অতীতে মুম্বইতে বন্যার পর এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাই বর্ষাকালে জমিতে কাজ করার ক্ষেত্রে গামবুট, গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক।
এদিকে, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে লেপ্টোস্পাইরোসিস সন্দেহে আসা নমুনায় সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ডাঃ অরুণাভ সরকার বলেন, প্রথম দিকে দিনেই একশোরও বেশি নমুনা আমরা পেয়েছি। তাতে সত্তরটিরও বেশি নমুনায় লেপ্টোস্পাইরোসিস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। গত কয়েকদিনে সংক্রামিত সাতজনও পাওয়া যায়নি। সংক্রমণের হার এখন অনেকটাই নিম্নমুখী। এটাই সব থেকে বড় স্বস্তির কারণ।