সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: সুইসায় মা-মেয়ে সহ তিনজনের নৃশংস খুনের ঘটনায় এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। মঙ্গলবার জিআরপির উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ পুলিসের একটি দল ঘটনার তদন্তে সুইসায় আসেন। পরিবারের একাধিক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদও করে রেলপুলিস। তবে গোটা ঘটনায় বিবাহবর্হিভূত সম্পর্কের কোনও বিষয় রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে দোষীদের খুঁজে বের করে ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে সুইসা স্টেশনের অদূরে রেললাইন থেকে কাজল মাছোয়াড় তাঁর মেয়ে রাখি এবং বোন রাধা মাছোয়াড়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। বাড়ি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহ উদ্ধারের পরই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। কাজলদেবীর স্বামী ভিনরাজ্যে কাজ করেন। বুধবারের মধ্যে তাঁর বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জিআরপির উচ্চপদস্থ অধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন। মৃতার বাপেরবাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন। ঠিক কোন সময়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন কাজলদেবী। তাঁর আগে ফোনে কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল কিনা সেবিষয়েও জানতে চান জিআরপির আধিকারিকরা। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুরুলিয়া জিআরপি থানার পুলিস। জিআরপি থানার পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজলদেবীর সঙ্গে ফোনে কারও কথা হয়েছিল কিনা তার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। সেই সঙ্গে কারও একার পক্ষে ওই তিনজনকে খুন করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে পুলিস। ঘটনায় একাধিক জনের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিস।
সেই সঙ্গে কাজলীদেবী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিজেরাই ওই এলাকায় গিয়েছিলেন নাকি তাঁদের জোর করে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে মৃতার বোন সোমবারী মাছোয়াড় বলেন, কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে মোবাইল সারানোর জন্যই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল দিদি। বিকালে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরে এল না। পরে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হল। তিনি আরও বলেন, শিশু সহ নৃশংসভাবে যেভাবে তিনজনকে খুন করা হয়েছে তাতে দোষীদের চরম শাস্তি দিতে হবে। ওদের ফাঁসি দিতে হবে।