সংবাদদাতা, কান্দি: মাসখানেক ধরে জল জমে রয়েছে এলাকায়। নোংরা জলে পা ডুবিয়ে হাঁটাচলা ছাড়া উপায় নেই। বাসিন্দাদের সর্দিকাশি-জ্বরজ্বালা লেগেই রয়েছে। বড়ঞা ব্লকের পাঁচথুপি গ্রামের তিনটি পাড়ার হাজারের বেশি পরিবার এই সমস্যায় পড়েছেন। পঞ্চায়েত প্রধান বলছেন, এ সমস্যা ১৫ বছরের পুরনো। তবে বড়ঞার বিডিও সে দাবি মানতে নারাজ। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রামের ওন্দাপাড়া, মোকামপাড়া ও গঙ্গাসাগর পাড়ায় মাসখানেক ধরে জল জমে রয়েছে। যার প্রধান এবং একমাত্র কারণ বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা। রাস্তার উপর হাঁটু সমান নোংরা জল, তাই মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কয়েকটি বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকেছে। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। একাধিক শিশু জলে পড়ে গিয়েছে। বাসিন্দারা স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের উপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। গৃহবধূ শিখারানি সাহা বলেন, কার্তিক মাস পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে। অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের কেউ এই এলাকায় আসেননি। বাচ্চাদের কোলে করে স্কুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। একমাসের উপর জল জমে রয়েছে।
গৃহবধূ শীলা মণ্ডল বলেন, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এই অবস্থা চলছে। পঞ্চায়েত, ব্লক সবাইকে জানিয়েছি। বাড়ির লোকজন বেরতে পারছেন না। বিডিও আসছেন দেখছেন চলে যাচ্ছেন। সমস্যা মিটছে না।
বাসিন্দা লালচাঁদ শেখ জানান, কিছু ব্যক্তি জোর করে নালা বন্ধ করে দেওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেউ বাড়ি তৈরি করেছে, কেউ পায়খানা তৈরি করেছে নালা বুজিয়ে। সমস্যা জানানো হলেও পঞ্চায়েত সদস্যরা দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফল ভুগছি আমরা। ঘটনায় পাঁচথুপি নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অজিতকুমার লাহা বলেন, ওই এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি বর্ষাতেই এই সমস্যায় পড়তে হয়। এনিয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে বার বার দরবার করেছি। উন্নত পাঁচথুপি গ্রামের কাছে ওই এলাকা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাঁচথুপি পঞ্চায়েত প্রধান কেশবচন্দ্র সাহা বলেন, এই সমস্যা প্রায় ১৫ বছরের। ওই সমস্যা মেটাতে গেলে বহু শ্রমিকের প্রয়োজন। সেই শ্রমিক জোগান দেওয়া পঞ্চায়েতের পক্ষে অসম্ভব। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও বড়ঞা বিডিও গোবিন্দ দাস ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দাবি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, টানা একমাস ধরে এলাকা জলমগ্ন হয়ে থাকতেই পারে না। আমি নিজেও এলাকা পরিদর্শন করি। প্রয়োজনে নিজে কোদাল ধরে নালা পরিষ্কার করি। হয়ত দুই-একদিনের জন্য জল জমে থাকতে পারে। কিন্তু টানা একমাস ধরে জল জমে থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আসলে বাসিন্দারা নিজে থেকেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি করে থাকেন। তাই সমস্যা সমাধানে মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। বড়ঞা বিএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, ওই এলাকায় প্রচুর জ্বর, সর্দি, কাশি হওয়ার রির্পোট এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।