সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ঝড়-বৃষ্টিতে আবাস যোজনার নির্মীয়মাণ বাড়ির উপর বিশালাকার গাছ পড়ে গিয়েছিল। ভেঙে যায় ঘরের একাংশ। রাস্তাও আটকে যায়। ঘটনার দিন গাছ কাটা শুরু করে বনদপ্তর। তারপর তিন মাস কেটে গেলেও সেই গাছ কেটে সরাতে পারল না বনদপ্তর। অসহায় বৃদ্ধার নির্মীয়মাণ বাড়ি থেকে কবে ওই গাছ সরানো হবে তা জানেন না কেউ। ব্লক প্রশাসন থেকে বনদপ্তরের আধিকারিকরা কেউ এবিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পরছেন না।
বলরামপুর ব্লকের অন্তর্গত খেঁকরিডি গ্রামেরই বাসিন্দা বৃদ্ধা পস্তু টুডু। মাটির ভাঙা বাড়িতে একাই থাকেন। সরকারি আবাস যোজনার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন। তারপর বর্ষায় প্রবল ঝড়ে বিশালাকার গাছ নির্মীয়মাণ আবাসের বাড়ির উপর পড়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে আসেন বনদপ্তরের কর্মী ও বলরামপুরের বিডিও। গাছ কেটে সরানোর কাজও তড়িঘড়ি শুরুও হয়। কিন্তু পরে আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় চার মাস। এখনও ওই গাছ কাটার কাজ শেষ হয়নি। ওই গাছ গ্রামের একটি রাস্তার উপর পড়ে থাকায় রাস্তাও আটকে গিয়েছে। এবিষয়ে পস্তুদেবী বলেন, প্রায় তিন মাস আগে গাছটি পড়েছে। সেইসময় বনদপ্তরের লোকজন এসে গাছ কেটে সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিল। সবাই ছবিও তুলল। তারপর আর কেউ আসেননি। কী করে আবাসের ঘরের কাজ শেষ হবে? কোনও সাহায্যও পাইনি। কখনও লোকের ঘরে,কখনও ভাঙা ঘরে থাকতে হচ্ছে। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। তারপর কয়েকদিন আগে দু’জন লোক এসে বাড়ির ছবি তুলে চলে যায়। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। ওই গাছ কাটিয়ে সরানোর মতো সামর্থ্য আমার নেই। ওই গ্রামের বাসিন্দা রঞ্চিত মণ্ডল বলেন,বনদপ্তরের পক্ষ থেকে সরানোর ব্যবস্থা শুরু হলেও তারপর কাজ আটকে যায়। কী কারণে আটকে যায় জানি না। সেসময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার যে সমস্যাটা হয়েছিল তা মিটেছে। গ্রামের বাসিন্দা অশ্বিনী মণ্ডল বলেন, রাস্তাও আটকে রয়েছে। গ্রামের একাংশের বাসিন্দাদের ঘুরপথে যেতে হচ্ছে।
বিডিও সৌগত চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর বনদপ্তরকে জানানো হয়েছিল। ওই কাজ এখনও কেন হয়নি তা খোঁজ নিয়ে দেখব। ওই গাছ সরানোর পরই বোঝা যাবে নির্মীয়মাণ ঘরটি কী অবস্থায় রয়েছে। তারপরই প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে কোনও সমস্যা হবে না। বনদপ্তরের বলরামপুর রেঞ্জের আধিকারিক অর্পিতা কুণ্ডু বলেন, এক মাস আগে বলরামপুরে কাজে যোগ দিয়েছি। সেসময় অন্যজন দায়িত্বে ছিলেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। ওই বাড়ির উপর প্রায় ২০ ফুটের মোটা গুঁড়ি পড়ে রয়েছে। যা ক্রেন ছাড়া তোলা প্রায় অসম্ভব। ওই গাছ কাটার পর তা কী করা হবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে একটা সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে ব্লক প্রশাসন বা পঞ্চায়েত এবিষয়ে উদ্যোগ নিলে বনদপ্তর অবশ্যই সাহায্য করবে।