নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর পুরসভার বাজেট পাশের ‘অনিয়ম’ খুঁজতে রাজ্য থেকে আসছে তিন সদস্যের বিশেষ প্রতিনিধি দিল। আজ, বৃহস্পতিবার বেলা ১০টা নাগাদ রাজ্য সরকারের ডিরেক্টর অব লোকাল বডিস অর্থাৎ ডিএলবি থেকে প্রতিনিধি দল কৃষ্ণনগর আসবেন। ওই দলে রয়েছেন জয়েন্ট ডিরেক্টর অব লোকাল বডিস সুশান্তকুমার মণ্ডল, ডেপুটি ডিরেক্টর অব লোকাল বডিস জয়দীপ রায় এবং নদীয়া ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত সিকদার। অপসারিত চেয়ারপার্সন রীতা দাসের জামানায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বাজেট পাশ করাতে কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা সেটাই তদন্ত করতে আসছে এই কমিটি। তারা তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা করবে। যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এনিয়ে তৃণমূলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নরেশচন্দ্র দাস বলেন, তদন্ত কমিটি আসছে। তারা তদন্ত করে দেখবে।
এব্যাপারে অপসারিত চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, তাঁরা তদন্ত করলে দেখতে পাবেন যে বাজেটে পাশ করা নিয়ে কোনও অনিয়ম হয়নি। আর বর্তমানে যাঁরা দায়িত্ব নিয়ে রাস্তার কাজে অনিয়ম করছেন, সেটাও যেন তদন্তের আওতায় রাখা হয়। কারণ তদন্ত প্রক্রিয়ায় দেরি হলে অনিয়ম বাড়বে। রীতাদেবীর বিরোধী তৃণমূলের কাউন্সিলার প্রদীপ্ত দত্ত বলেন, বাজেট অবৈধভাবে পাশ করানো হয়েছে। সেজন্য আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আদালত ডিএলবি’কে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল। সেইমতো ডিএলবি থেকে প্রতিনিধি দল তদন্ত করতে আসছেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় আট মাস ধরে কৃষ্ণনগর পুরসভায় বাজেট পাশ হওয়া নিয়ে জলঘোলা চলছে। ফলে নাগরিক পরিষেবা নিয়েও বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভাকে। প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর অভিযোগ, চেয়ারপার্সন অবৈধভাবে বাজেট পাশ করিয়েছিলেন। যদিও সেই অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন চেয়ারপার্সন। এরই মধ্যে অনাস্থা এনে চেয়ারপার্সন পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে রীতাদেবীকে। তাতে দলের নির্দেশ উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছিল চেয়ারপার্সন বিরোধী কাউন্সিলারদের বিরুদ্ধে। অনাস্থার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, শহরের নাগরিক পরিষেবা অচল রাখার দায়ে পুর নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফ থেকে কৃষ্ণনগর শহরের কাউন্সিলারদের শো-কজ করা হয়েছিল। এমনকী বোর্ড ভেঙে দেওয়ারও ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছিল।
অবৈধভাবে বাজেট পাশ করানোর অভিযোগে চেয়ারপার্সন বিরোধী শিবিরের কাউন্সিলাররা আদালতে মামলা করেছিলেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত ওই মামলা খারিজ করে দেয়। সেইসঙ্গে আদালত বিষয়টি রাজ্য সরকারকে তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ মেনে ডিএলবির তরফ থেকে ১৪ অক্টোবর পুরসভায় প্রতিনিধি দল পাঠানোর কথা জানায়। পুর কর্তৃপক্ষকে সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে কৃষ্ণনগর পুরসভা প্রাক্তন চেয়ারপার্সন বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলারদের নিয়ন্ত্রণে। এরই মধ্যে কৃষ্ণনগর শহরের কদমতলা ঘাট এলাকায় একটি রাস্তা তৈরি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাস্তার কাজ হয়েছে। এই অভিযোগ উঠার পরই পুরসভায় ডিএলবির তদন্ত কমিটি আসছে।