নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বড়ঞা থানার মুনাই কাঁদরা গ্রামে বসেই দেশব্যাপী সাইবার প্রতারণা চলাচ্ছিল। সোনারুল শেখ, ফিরোজ শেখ ও মহম্মদ আরিফ নিজের এলাকায় বাংলাদেশিদের রেখে প্রতারণার জাল বিস্তার করত। শুক্রবার বাড়ি থেকে ওই তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, সেখান থেকে আরও চারজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের এটিএম কার্ড, সিম, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার গ্রামের তিন যুবকের গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এর আগেও একাধিক বাংলাদেশিকে গ্রামে ঢুকিয়ে বিভিন্ন কাজে পাঠিয়েছে। সাইবার প্রতারণার পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের সাহায্য এবং তাদের ভিনরাজ্যে, এমনকি ভিনদেশে কাজ পাইয়ে দিয়ে মোটা টাকা উপার্জন করত সোনারুল, ফিরোজ ও আরিফ। স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে এই তিন যুবকের বাড়িতে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন। অভিযুক্তরা সকলকেই নিজেদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিত। তবে, এই তিনজন যে অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে সাইবার প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল, তা টের পাননি স্থানীয়রা। বাংলাদেশের যুবকদের এনে এই প্রতারণার কাজে ট্রেনিং করিয়ে তারা একটি গ্যাং বানিয়েছিল। এই তিনজনই ছিল গ্যাংয়ের মাস্টারমাইন্ড। এরাই সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাবাড় করে দিচ্ছিল। তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানির নামে অ্যাকাউন্ট খুলত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে করা সাইবার প্রতারণার টাকা সেখানে ঢোকাত। তারপর তারা অ্যাকাউন্টের এটিএম কার্ড মারফত বিপুল টাকা তুলত। পাশাপাশি, অভিযুক্তরা মানুষকে নানাভাবে প্রতারিত করে, অনেকের এটিএম কার্ড হাতিয়ে কয়েক কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা করেছে।
পুলিশ ধৃত সাতজনকেই নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জেরা করছে। সেখানে একাধিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ১২১টি এটিএম কার্ড, দু’টি ল্যাপটপ, ১৩টি মোবাইল এবং ৪৬টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এটিএম কার্ডগুলি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, একাধিক ব্যক্তি ও কোম্পানির নামে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, বাংলাদেশিরা কবে, কীভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল, কাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বড়ঞা থানার মুনাই কাঁদরা গ্রামের তিন যুবকই আসল মাস্টারমাইন্ড। ওরাই বাংলাদেশের চারজনকে শেল্টার দিয়ে এই প্রতারণার কাজে নামিয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে। এই গ্যাংয়ে আরও কয়েকজন সদস্য থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি দুষ্কৃতীদেরও খোঁজ করা হবে।