নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ফের ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু। এবার ঘটনাস্থল ঝাড়গ্রাম। রাতের অন্ধকারে রেললাইন পার হতে গিয়ে বেঘোরে মৃত্যু হল একটি শাবক ও দু’টি পূর্ণবয়স্ক হাতির। এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে রেল কর্তৃপক্ষ। গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ বাঁশতলা ও সরডিহা স্টেশনের মাঝে ১১টি হাতির একটি দল রেললাইন পার করছিল। বাঁশতলা থেকে লাইন পার হয়ে রামরামা জঙ্গলের দিকে যাচ্ছিল সেগুলি। সেসময় ওই পথে যাচ্ছিল খড়্গপুরগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। ট্রেনের ধাক্কায় একটি শাবক সহ তিনটি হাতির দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বন বিভাগের আধিকারিরা।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ‘রেলকে রাত ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাঁশতলা এলাকায় ৩০টি হাতির অবস্থানের কথা জানানো হয়। যে কারণে ট্রেন ধীরে চালানো ও হর্ন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমাদের এই অনুরোধ তাঁরা শুনলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো।’ জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে একটি শাবক ও দু’টি পূর্ণবয়স্ক হাতির দেহ জেসিবির মাধ্যমে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণ পর্যন্ত খড়্গপুর-টাটা শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। যার জেরে একাধিক স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। খড়্গপুর ডিভিশনের রেল আধিকারিক নিশান্ত কুমার জানিয়েছেন, রেলের তরফে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক হাতির মৃত্যুর খবরে স্থানীয় গ্রামগুলিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা শত্রুঘ্ন মাঝির মন্তব্য, ‘এমন ঘটনা এই এলাকায় আগে কখনও দেখিনি’। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগে লাইনের দু-পাশে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণের বোর্ড রাখা ছিল। কোভিডের সময় তৃতীয় রেল লাইন তৈরির সময় সেই বোর্ড তুলে দেওয়া হয়। হাতির করিডোর হওয়া স্বত্বেও ট্রেন এখানে জোরে কেন ছুটছে? প্রশ্ন শত্রুঘ্ন মাঝির মতো অনেকের।