নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাভাবিক সময়ের দিনতিনেক পর আগামী কাল বৃহস্পতিবার কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার প্রবেশ ঘটবে। মঙ্গলবার ঘোষণা করে দিল আবহাওয়া দপ্তর। বর্ষা একইসঙ্গে প্রবেশ করবে তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও। আগামী কয়েকদিন কেরলের কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতসহ দেশের অন্যান্য অংশে বর্ষার প্রবেশ ঠিক কবে, সে-ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর এদিন কিছু জানায়নি। উত্তর-পূর্ব ভারত হয়ে, সাধারণত উত্তরবঙ্গ দিয়েই এরাজ্যে প্রথমে বর্ষা ঢোকে। মৌসুমি বায়ুর একটা অংশ এখনো পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে মায়ানমার পর্যন্ত পৌঁছেছে। ওই অংশটি আরো উঠে এসে উত্তর-পূর্ব ভারতে ঢুকবে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত এল নিনো থাকতে পারে। এবার সৃষ্টি হতে পারে শক্তিশালী এল নিনো। শেষবার এল নিনো সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৫-১৬ সালে। তাতে দেশে বৃষ্টির পরিমাণ কম হয়। ভারত মহাসাগরের দুই প্রান্তে জলের তাপমাত্রার পার্থক্য বা ‘ডাইপোল’ পরিস্থিতি ইতিবাচক (পজিটিভ) থাকার কারণে সেইসময় এল নিনোর প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা। এবার ডাইপোল এখনো পর্যন্ত ‘নিউট্রাল’। সেটা পরে ‘পজিটিভ’ হওয়ার আশা আছে। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মরশুমে কখন সেটা হবে জানা নেই। এল নিনোর জন্য এবার দেশে সামগ্রিকভাবে বর্ষাকালীন বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা কম হওয়ার আশঙ্কার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির মাত্রা কিছুটা বাড়বে। ওইসময় থেকে কয়েকটি জেলায় আগামী চার-পাঁচদিনের জন্য ‘হলুদ’ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝড় এবং বজ্রপাতসহ হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির সর্তকতা থাকছে উত্তরবঙ্গের জন্যও। দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা আপাতত আর বিশেষ বাড়বে না। দু-তিনদিন পর ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমবে। মঙ্গলবারও কলকাতাসহ কয়েকটি জেলার কোনো কোনো জায়গায় বজ্রমেঘ সৃষ্টি হয়। কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ৩৬.১ ডিগ্রি হয় এদিন। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৮ ডিগ্রি। দুটি তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।