Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একমাসেরও কম সময়ে সালারে পরপর তিনটি খুন-ধর্ষণ, আতঙ্ক! পুলিশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করছেন বাসিন্দারা

মাসের শুরুতে নাবালিকাকে গণধর্ষণ। পরে নাবালক খুন। মঙ্গলবার ফের খুনের ঘটনা। কয়েক কিলোমিটার ব্যাস্যার্ধে একমাসে পরপর তিনটি ঘটনায় আতঙ্কিত সালারের বাসিন্দারা।

একমাসেরও কম সময়ে সালারে পরপর তিনটি খুন-ধর্ষণ, আতঙ্ক! পুলিশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করছেন বাসিন্দারা
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: মাসের শুরুতে নাবালিকাকে গণধর্ষণ। পরে নাবালক খুন। মঙ্গলবার ফের খুনের ঘটনা। কয়েক কিলোমিটার ব্যাস্যার্ধে একমাসে পরপর তিনটি ঘটনায় আতঙ্কিত সালারের বাসিন্দারা। অভিভাবকদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য তাঁরা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে আম জনতার বোঝাপড়ার অভাবকে দায়ীকে করছেন।

Advertisement

অক্টোবরের ৬ তারিখে সালার থানা থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন থেকে নির্যাতিতার পরিবারকে বিচারের আশ্বাস দেওয়াও হয়েছে। এর জের কাটতে না কাটতেই গত ২২ অক্টোবর স্থানীয় সালু পঞ্চায়েত এলাকায় এক ১০ বছরের নাবালককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে নাবালকের দেহ উদ্ধার হয়। এর পরের ঘটনা সালার বিডিও অফিস থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে। মঙ্গলবার সকালে একটি চায়ের দোকানে খুন হন সালারের লাইব্রেরি পাড়ার মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজ শেখ (৪২)। এক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তবে একমাসের মধ্যে পরপর অঘটনগুলি বাসিন্দাদের চরম আতঙ্কে রেখেছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একমাসের মধ্যে দু’টি খুন, একটি গণধর্ষণ ইতিপূর্বে সালারে কখনও ঘটেনি। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনকে কোনও প্রচার বা পদক্ষেপও করতে দেখা যায়নি। তাই বাসিন্দারা আতঙ্কিত।
সালারের অফিসপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে কয়েকবছর আগে এই পাড়ায় বাড়ি করে বসবাস করছি। আগে কোনওদিন এমন ঘটনা ঘটতে দেখেনি। কিন্তু এখন কতকিছু দেখতে হচ্ছে। আমার নাবালিকা মেয়েকে বাড়িতে রেখে অফিস যেতেও ভয় করে। কারণ বাড়ির প্রয়োজনে ওকেই বাইরে বেরতেই হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য গোলাম মওলা বলেন, আমাদের সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিল, এলাকায় এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। এখন এলাকায় রাউডিপনা চরম। যে কোনও সমস্যার সামাধান একটি সিস্টেমের মাধ্যমে করতে হয়। যেটা এখানে হয় না। সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রসাশনের সঙ্গে সাধারণের তালমিল নেই বলা চলে। যে কারণেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। সমাজ সংশোধনে প্রশাসনের কোনও প্রচার নেই। রাজনৈতিক নেতারাও দায়হীন হয়ে পড়েছেন। এখন আর কোনও নেতা স্বেচ্ছায় শ্রম দেন না। ফলে সমাজ অধঃপতনে যাচ্ছে।
স্থানীয় ভরতপুর ২ বিডিও অনির্বাণ সেনগুপ্ত বলেন, এই ঘটনাগুলি খুব উদ্বেগজনক। তবে এটি ‘ল অ্যান্ড অর্ডার’-এর বিষয়। তাই এনিয়ে আমি কোনও বক্তব্য দিতে পারি না। পুলিশ ভালো কাজ করছে বলা যায়। আমি জেলাশাসকের নির্দেশ পালন করে কাজ করি। তার বাইরে আমার কিছু করার থাকতে পারে বলে মনে করি না।
যদিও তৃণমূলের প্রাক্তন ভরতপুর ২ ব্লক সভাপতি মহম্মদ আজাহারউদ্দিন বলেন, এমন পরিস্থিতি জীবনভর দেখিনি। এই নির্যাতন, খুন, সন্ত্রাস ভাবাই যায় না। অনিয়ন্ত্রিত জায়গায় চলে গিয়েছে সালার। পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সালার থানার ওসি তুষার মজুমদার বলেন, তিনটি ঘটনাতেই পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এর বাইরেও যদি কিছু বাকি থেকে যায় তো সংবাদ মাধ্যম দায়িত্ব নিক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ