সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: বৃহস্পতিবার মাথাভাঙা-২ ব্লকের প্রেমেরডাঙা ও উনিশবিশা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় দিনভর লোকালয়ে দাপাল তিনটি বাইসন। এরমধ্যে একটি বাইসনকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা গেলেও, বাকি দু’টি ভুট্টাখেতে লুকিয়ে পড়ে। এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে প্রচার চালাচ্ছে বনদপ্তর ও পুলিস। বনদপ্তর জানিয়েছে, বিঘার পর বিঘা জমিতে ভুট্টাখেত থাকার কারণে বাইসন দু’টিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর আগে প্রেমেরডাঙা এলাকার এক বাসিন্দার বাইসনের হামলায় মৃত্যু হয়েছিল। যদিও এদিন হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে বার বার লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
এদিন সকালে প্রেমেরডাঙা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ধলোগুড়িতে তিনটি বাইসনকে ভুট্টাখেত সংলগ্ন এলাকায় দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মাথাভাঙা বনদপ্তরের কর্মী ও ঘোকসাডাঙা থানার পুলিস। পরে বাইসনগুলি প্রেমেরডাঙা সংলগ্ন উনিশবিশা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। দিনভর বনদপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে লুকোচুরি চলে বাইসনের। দুপুরের দিকে একটি বাইসনকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা গেলেও, বাকি দু’টি ভুট্টাখেতে লুকিয়ে পড়ে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু বাইসনটিকে উদ্ধার করে চিলাপাতা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভুট্টাখেতে লুকিয়ে পড়া বাইসনগুলিকে নাগালে পাননি বনকর্মীরা। বেশকিছু জমির ভুট্টাখেতের ক্ষতি হয়েছে। বনদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, কৃষকরা আবেদন করলে নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেন সরকার বলেন, মাঝে মাঝে এলাকায় বাইসন ঢুকে পড়ছে। এদিন বাইসন ভুট্টাখেতে চলে আসায় আমরা ভয়ে বাইরে বের হতে পারছি না। আতঙ্কে রয়েছি। এব্যাপারে মাথাভাঙার রেঞ্জার সুদীপ দাস বলেন, এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু বাইসন। - নিজস্ব চিত্র।