নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হুগলির ডানকুনি ও কলকাতার ট্যাংরায় দুই অ্যাপ ক্যাব চ্যালক খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন আগে একই পেশায় ছিল। তিনজনই অ্যাপ ক্যাবের চালক ছিল। কিন্তু তারা নেশাখোর হওয়ায় একসময় মালিক তাদের গাড়ি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। কাজ হারানোর পর তারা ঠিক করে, পার্টি করা অর্থাৎ নেশা করে হইহুল্লোড়ের জন্য টাকা জোগাড় করতে তারা যাত্রী সেজে ক্যাবে উঠে ছিনতাই করবে। তদন্তকারীদের জেরার মুখে এমনটাই দাবি করেছে এই তিন ধৃত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনতাই থেকে শুরু করে একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর জন্য আগে জেলও খেটেছে তারা।
এক সপ্তাহের মধ্যে পৃথক দু’টি জায়গায় দু’জন অ্যাপ ক্যাব চালক খুন হন। বিরাটির বাসিন্দা রামজশ কৈরির দেহ মিলেছিল ডানকুনিতে দিল্লি রোডের ধারে। অন্য ক্যাব চালক ভগবান প্রসাদ গুপ্তার দেহ তাঁর গাড়ির মধ্যেই পাওয়া যায় ট্যাংরা এলাকায়। দু’জনকেই শ্বাসরোধ করা হয়। তদন্তে নেমে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ডানকুনি থানা। তদন্তে উঠে আসে, শেখ সাহাদাত ওরফে নাসিম প্রথমে অ্যাপ ক্যাব চালাত। সে বাকি দুই অভিযুক্তকে গাড়ি চালানো শিখিয়ে এই পেশায় নিয়ে আসে। এই কাজের সুবাদে একাধিক অ্যাপ ক্যাব চালকের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। পাশাপাশি মধ্যমগ্রাম, বারাসত, এয়ারপোর্ট থেকে যে অনেক যাত্রী শাটলের জন্য অপেক্ষা করে, তা তারা জানত। তিনজনই অতিরিক্ত নেশা করায় মালিকরা তাদের গাড়ি দেওয়া বন্ধ করে দেন। কর্মহীন হয়ে তারা প্রথমে চুরিতে নাম লেখায়। বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল, ল্যাপটপ চুরি করে বেড়াত। এগুলি সহজে বিক্রি করে কাঁচা টাকা পাওয়া যাবে বলে তারা এই রাস্তা বেছে নিয়েছিল। চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তারা জেলে যায়। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ধরা পড়া এক অভিযুক্তের সঙ্গে। ওই অভিযুক্ত তাদের পরামর্শ দেয়, চটজলদি পয়সা রোজগারের জন্য ছিনতাইয়ে নামতে পারে তারা। রাস্তায় ছিনতাই করলে নগদ বা অ্যাপ ক্যাবে উঠে চালককে মারধর করলেও টাকা পাওয়া যাবে। এরপরই দলের পান্ডা সাহাদাত ঠিক করে, অ্যাপ ক্যাবে যাত্রী সেজে উঠে গাড়ি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে চালককে মারধর করে লুটপাট করবে। সেই অনুযায়ী পরপর দু’টি অপরাধ তারা করেছিল। জায়গা পালটে পালটে অপরাধ করত তারা, যাতে পুলিশ তদন্তে নেমে বিভ্রান্ত হয়।



