Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লকআপে বসে নিহত ছাত্রীর বাবাকে হুমকি, অনুশোচনা নেই তাহেরপুরে ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে ধৃতের

‘ক্রাইম থ্রিলার’-এর যেন নায়ক তাহেরপুরে কিশোরী খুনে ধৃত প্রসেনজিৎ মণ্ডল ওরফে শুভ। সে পেশাদার কোনও খুনি নয়। অপরাধের ট্র্যাক রেকর্ডও নেই।

লকআপে বসে নিহত ছাত্রীর বাবাকে হুমকি, অনুশোচনা নেই তাহেরপুরে ছাত্রী হত্যাকাণ্ডে ধৃতের
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ‘ক্রাইম থ্রিলার’-এর যেন নায়ক তাহেরপুরে কিশোরী খুনে ধৃত প্রসেনজিৎ মণ্ডল ওরফে শুভ। সে পেশাদার কোনও খুনি নয়। অপরাধের ট্র্যাক রেকর্ডও নেই। অথচ, প্রেম-প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পড়শি এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার পর তার হাবভাব যেন দাগি অপরাধীর মতো! ধরা পড়ার পর থেকে কোনও অনুশোচনা নেই। কোনও অনুতাপ নেই। বরং রয়েছে ঔদ্ধত্য। বেশি করেছি, ঠিক করেছি ভাব। থানার লকআপে থেকেও দু’হাতের আঙুলকে রিভলবারের মুদ্রায় ধরে যেভাবে নিহত কিশোরীর বাবাকে তাক করেছিল, তা দেখে তাজ্জব পুলিশ। উত্তেজনায় হাত-পা কাঁপতে শুরু করে দিয়েছিল প্রৌঢ়ের! প্রসেনজিতের এহেন আচরণ ক্রাইমের ভাষায় অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলেই মনে করছেন মনস্তত্ববিদরা। এদিকে, খুনের পর চারদিন পরও ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা গেল না ফরেন্সিক নমুনা। তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে, উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি। 

Advertisement

তাহেরপুর থানার কামগাছি শ্যামনগর গ্রাম। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দশম শ্রেণির ছাত্রী অনুষ্কা মণ্ডলকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায় প্রসেনজিৎ। এলাকাবাসীর উদ্যোগেই তাকে ঘটনা দিন রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। দু’দিন পর রবিবার অভিযুক্তকে নিয়ে এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল পুলিশের। কিন্তু স্থানীয়দের ক্ষোভ থাকার কারণে পিছিয়ে আসেন তদন্তকারীরা। সোমবার তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। ধৃতের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি প্রাথমিক স্কুল চত্বর থেকে উদ্ধার করা হয় খুনে ব্যবহৃত চপার। কিশোরীকে কুপিয়ে হত্যার পর সেখানেই অস্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছিল প্রসেনজিৎ। তাকে নিয়ে বাড়িতেও যান তদন্তকারীরা। সেখান থেকেও বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু যেখান থেকে অনুষ্কার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখান থেকে এখনও কোনও নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ। সূত্রের খবর, ফরেন্সিক টিমকে নমুনা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এসে পৌঁছয়নি। এর মাঝে বৃষ্টি হয়। তাতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা আদৌ সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে, সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে প্রসেনজিতের আচার আচরণ। গ্রেফতারের পর শনিবার তাকে থানার লকআপে রাখা হয়েছিল। নিহত কিশোরীর বাবা তাপস মণ্ডল অভিযোগ দায়ের করতে থানায় গিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই লকআপ থেকেই দু’হাতের আঙুলকে বন্দুকের মতো ধরে তাঁর উপর গুলি চালানোর ইঙ্গিত করে প্রসেনজিৎ। তা দেখে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। অভিযুক্তের এমন আচরণ দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত তাপসবাবুর গোটা পরিবার। রানাঘাটের এসডিপিও সবিতা গটিয়াল বলেন, ‘আমরা ফরেন্সিক টিমকে খবর দিয়েছি। তারা এলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। বাকি যা যা তথ্য প্রমাণ আমাদের প্রয়োজন, তা সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কাউকে ভয় দেখিয়েছিল কিনা, আমার জানা নেই।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ