Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কুরিয়ার ও বিমানে পাচার হাজার সিমকার্ড, অনলাইনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ চক্রীদের

দু’বছরে ফাঁসিদেওয়া থেকে এভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নথিভুক্ত শত শত সিমকার্ড পাচার আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের কাছে

কুরিয়ার ও বিমানে পাচার হাজার সিমকার্ড, অনলাইনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ চক্রীদের
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: কখনও কুরিয়ারে। কখনও বিমানে। দু’বছরে ফাঁসিদেওয়া থেকে এভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর নথিভুক্ত শত শত সিমকার্ড পাচার আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের কাছে। সেই চক্রের ঘাঁটি গুজরাত এবং মহারাষ্ট্র। সেখান থেকে সিমগুলি প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুবাই এবং শ্রীলঙ্কায় চালান হতো বলে খবর। মানিলন্ডারিং কাণ্ডে মহম্মদ সইদুলের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিস। একই সঙ্গে তাদের সন্দেহ, ধৃত সইদুলের কায়দায় কয়েকজন সাগরেদও সিম পাচার করছে। যারা এখনও ফেরার।

Advertisement

দার্জিলিংয়ের পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ বলেন, ধৃত সইদুলের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেগুলি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ধৃতের কায়দায় আরও কয়েকজন সিমকার্ড ভিনরাজ্যে পাচার করেছে। অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে।
প্রায় একমাস ধরে সাইদুলের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিস তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিস সূত্রের খবর, ২০২২ ও ২০২৩ সালে স্থানীয় প্রায় এক হাজার বাসিন্দার নামে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে দেয় সইদুল। সে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য মোবাইল ফোনের নম্বর জোগাড় করেছে। অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার সেই ফোন নম্বর সম্পর্কে ছিলেন অন্ধকারে। আর সইদুল সেই সিমকার্ডগুলি কুরিয়ারের মাধ্যমে গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের অনলাইন প্রতারণা চক্রের কাছে পাচার করত। কখনও কখনও বিমানে করে সে নিজেও সেই চক্রের কাছে সিমকার্ড পৌঁছে দিয়েছে। আবার কখনও বিমানে করে বাগডোগরায় এসে সিমকার্ডগুলি সংগ্রহ করেছে সংশ্লিষ্ট চক্রের মাতব্বররা। এভাবে দু’বছরে প্রায় হাজারটি সিমকার্ড পাচার করেছে বলে ধৃত সইদুল জেরায় কবুল করেছে। প্রতিটি কার্ডপিছু মাসে মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন হিসেবে পেয়েছে বলেও খবর।
পুলিসের এক অফিসার জানান, সিমকার্ডগুলি পাওয়ার পরই অ্যাকাউন্টগুলির নিয়ন্ত্রণ করত চক্রীরা। তারা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টগুলিতে অর্থ লেনদেন করত। গুজরাত ও মহারাষ্ট্র থেকে তারা এই কারবার চালাতে। তারা কিছু সিমকার্ড শ্রীলঙ্কা ও দুবাইয়ে পাচার করেছে। সেইসব দেশ থেকেও অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। সইদুল নিজেও এভাবে বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করত বলে জানিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই লেনদেন সংক্রান্ত এসএমএস যেত চক্রীদের মোবাইল ফোনেই। কাজেই, বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকত অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট হোল্ডার।
গত ৪মার্চ ঘোষপুকুর থেকে এক সাগরেদ সহ সইদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর তদন্ত চালিয়ে পুলিস আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিসের এক অফিসার জানান, ধৃত সইদুলের দেখানো পথে পা বাড়িয়েছে আরও কিছু যুবক। তারাও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নথিভুক্ত সিমকার্ড পাচার করত বলে অভিযোগ। সইদুলের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিসি অভিযান শুরুর পরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। শীঘ্রই কয়েকজন ধরা পড়বে বলে পুলিস অফিসাররা আশাবাদী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ