Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তোর্সার বাঁধের ওপারে কয়েক হাজার বাসিন্দার ঘরে পলি-কাদা, বিপর্যস্ত শহরের পাঁচটি ওয়ার্ড

পাহাড় ও কোচবিহারে ব্যাপক বৃষ্টির পর তোর্সা নদীর বাঁধের ওপারে থাকা কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন

তোর্সার বাঁধের ওপারে কয়েক হাজার বাসিন্দার ঘরে পলি-কাদা, বিপর্যস্ত শহরের পাঁচটি ওয়ার্ড
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: পাহাড় ও কোচবিহারে ব্যাপক বৃষ্টির পর তোর্সা নদীর বাঁধের ওপারে থাকা কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। রবিবারই তাঁদের ঘরে জল ঢুকে গিয়েছিল। নদীর জল বাড়ার আশঙ্কায় রাতে বহু মানুষ বাঁধের উপরে উঠে বাঁশ, ত্রিপল টাঙিয়েছিলেন। কিন্তু রাতেই নদীর জল নামতে শুরু করে। সোমবার জল নামলেও প্রচুর পরিমাণ কাদা জমে যায় বাড়িগুলির ভিতরে। ফলে চরম বিপাকে পড়েন বাসিন্দারা। কীভাবে ওই কাদা সরিয়ে, ঘর বাড়ি ঠিক করে আবার বসবাস করবেন তা নিয়েই এখন চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। অনেকে রান্নার বাসনপত্র নিয়ে বাঁধে উঠে এসেছেন। কয়েকটি পরিবার সোমবার সেখানে রান্নাবান্নাও করে খেয়েছেন। 

Advertisement

পুরসভা, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এদিন রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। শুনশুনি বাজারের দিক থেকে ফাঁসিরঘাট হয়ে বিসর্জনের ঘাটের কিছুটা আগে পর্যন্ত যে বাসিন্দারা রয়েছেন, তাঁরাই মূলত বিপাকে পড়েছেন। এই এলাকার মধ্যে পুরসভার পাঁচটি ওয়ার্ড রয়েছে। বাঁধের উপরে চারটি কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়। ১, ১৫, ১৬, ১৮ ও ১৯ এই পাঁচটি ওয়ার্ডে সোমবার দুপুরেও খাওয়ার বিতরণ করা হয়। রাত থেকেই জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সিপিএমের মধুছন্দা রায় সহ অনেকেই ওই এলাকায় গিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার কোচবিহার ১ ও ২, হলদিবাটি- তুফানগঞ্জ ১ ও ২, মেখলিগঞ্জ-মাথাভাঙা ১ ও ২ এবং শীতলকুচি ব্লক ও কোচবিহার পুরসভা এলাকা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। জেলায় মোট ২৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। ২৩টি কিচেন চালু করা হয়েছে। এই সমস্ত ত্রাণ শিবিরে মোট চার হাজার ৬০৭ দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিন দুপুরে কোচবিহারের তোর্সা পাড়ে গিয়ে দেখা গিয়েছে, গীতা কার্জি, মানদি রায়, রাজু রায়রা বাঁধের উপরে রয়েছেন। নীচে তাঁদের বাড়িতে জল নামলেও গোড়ালি সমান কাদা জমে রয়েছে। সেখানে বসবাসের উপযুক্ত অবস্থা নেই। গীতা কার্জি বলেন, খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। ঘরে কাদা, বাইরে জল। ঠিকমতো রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। বাঁধের উপর খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই সেখান থেকে খাওয়ার নিচ্ছেন। রাজু রায় বলেন, আমাদের ঘরের ভিত ভেঙে গিয়েছে। বালির বস্তা দিয়ে সেগুলি সারাই করছি। কোনওভাবে সেটা রুখতে পারলে ঘরটা বাঁচবে। 
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, শহরের পাঁচটি দুর্গত এলাকায় রবিবার রাতে বিরিয়ানি দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে ডিম, সবজি ও ভাত দেওয়া হয়েছে। রাতে সবজি ও খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। এদিন বলরামপুরের শোলাডাঙার চরে গিয়ে দুর্গতদের মধ্যে জামা কাপড় বিলি করেছি।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ