সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: প্রতি বছর পুজোর দু’মাস আগে থেকেই বাড়তি রোজগারের প্রস্তুতি শুরু করে দেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলি। কেউ নতুন জামাকাপড় কেনার পরিকল্পনা করেন, কেউ বা সংসারের জন্য সামান্য সঞ্চয় করেন। কিন্তু এবার সেই সব পরিকল্পনাই হারিয়ে গিয়েছে শিলিগুড়ির এনজেপি স্টেশন সংলগ্ন বাঁশবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের। এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবারের মধ্যে ছড়িয়েছে উচ্ছেদের আতঙ্ক। কারও বসবাসের মেয়াদ ২০ বছর, কারও ৩০ বছর। ধীরে ধীরে সেখানেই পাকা বাড়ি, ছোট দোকান, সেলুন তৈরি করে সংসার গড়ে তুলেছেন তাঁরা। কিন্তু উচ্ছেদের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি।
কাউকে শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে ১৫ দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারিভাসা-বাঁশবাড়ির বাসিন্দা কল্পনা দেবনাথ বলেন, অচেনা লোক ঘুরতে দেখলে ভয় হয়,এই বুঝি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। মাথার উপর থেকে চালটা খুলে নিলে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় দাঁড়াব, জানি না। বাদল দেবনাথ, সুদেব সরকারদের মতো বাসিন্দাদের কথায়, বিজেপির প্রভাব থাকা এই এলাকায় ভোটের সময় মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস মিললেও এখন উচ্ছেদের আশঙ্কায় তাঁরা কার্যত একা।
ছোট সেলুন তৈরি করে জীবিকা চালানো সুদেব সরকার বলেন, ফাঁকা জমিতে বসেছিলাম। জমি রেলের না পূর্তদপ্তরের, তা আমাদের জানা ছিল না। তখন যদি বাধা দেওয়া হত, এতদিন ধরে কেউ সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে বাড়ি বানাত না, সংসার গড়ত না। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদের কথা বলা হচ্ছে। এটা গরিব মানুষকে বিপদে ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। এদিকে, সোমবার রেলের জমিতে থাকা হকার ও ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন দিল কালীঘাটপন্থী দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।