Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজনে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে হাজার হাজার ভক্তের জলে ঝাঁপ

শ্রী শ্রী ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজনে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে জলে ঝাঁপ দেওয়া।

ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজনে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে হাজার হাজার ভক্তের জলে ঝাঁপ
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: শ্রী শ্রী ঘণ্টেশ্বরদেবের গাজনে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে জলে ঝাঁপ দেওয়া। কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্য ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা থাকে বাসিন্দাদের মধ্যে। খানাকুলের উবিদপুরে রয়েছে এই ঘণ্টেশ্বর মন্দির। তার কাছেই একটি পুকুরে জল ঝাঁপের নিয়ম পালন করে আসছেন ভক্তরা। সেই জন্য পুকুরের নামও ঝাঁপ পুকুর। চৈত্র সংক্রান্তিতে বিশেষ এই রীতি ঘিরে খানাকুল সহ পার্শবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়।  ঘণ্টেশ্বর মন্দিরের এক পুরোহিত উজ্জ্বল বটব্যাল বলেন, সারা বছর বাবা ঘণ্টেশ্বরকে ফুল, মিষ্টি প্রভৃতি দেওয়া হয়। ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে সেগুলিই পান। কিন্তু, গাজন উপলক্ষ্যে কয়েকদিন দুধ ও চাল দিয়ে তৈরি মনুই ভোগ যা  করে বাবাকে নিবেদন করা হয়। সেইজন্য আগে মা কামাখ্যার পুজো করেন পুরোহিত। প্রথম দিনের মনুই ভোগ জলে দেওয়া হয়। বহু ভক্ত মানত করেন এখানে। ফলে কয়েকদিন গাজন দেখতে খানাকুল সহ দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। উবিদপুর, খানাকুল, রামনগর, দাইনান, রাধাবল্লভপুর এই পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে গাজনের কমিটি তৈরি করা হয়। সেইজন্য প্রত্যেক বছর নিয়ম করে ঢ়েঁড়া পিটিয়ে তা জানানো হয়। গাজন কমিটির এক কর্তা সৌমেন কারক বলেন, সারা বছরের অন্যতম উৎসব আমাদের ঘণ্টেশ্বর বাবার গাজন। নীল পুজো ও চৈত্র সংক্রান্তিতে মন্দির চত্বরে মেলা বসে। তারসঙ্গে হাজার খানেক সন্ন্যাসী হন ভক্ত। ফলে কয়েকদিন জমজমাট হয়ে ওঠে গাজন প্রাঙ্গণ। জলে ঝাঁপের দিনে বিপুল লোক সমাগম হয় বলে পুলিস, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, দমকল কর্মীরা মোতায়েন থাকেন। তাঁরা নিরাপত্তায় সাহায্য করেন। তারসঙ্গে বহু স্বেচ্ছাসেবকও নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন। 

Advertisement

গাজন কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজন উপলক্ষ্যে প্রথম দিন কামাখ্যার ঘট ওঠে। বাবা ঘণ্টেশ্বরের মন্দিরে দেবীর পুজো হয়। তাতেই প্রথম মনুই ভোগ দেওয়া হয়। পরের দিনের মনুই ভোগ ভক্তদেরও বিলি করার রীতি রয়েছে। এছাড়া পুজো নিয়ে আরও একাধিক রীতি রয়েছে এখানে। 
বাবার কাছে বহু ভক্ত সন্ন্যাসী হয়ে ব্রত করেন। তাঁদের নানা নিয়ম পালন করতে হয়। নীল পুজোর দিন বান ফোঁড়ার রীতিও এখানে রয়েছে। তারসঙ্গে চৈত্র সংক্রান্তির দিন ঝাঁপ পুকুরে ধজা পোঁতা হয়। বাবা ঘণ্টেশ্বরের কাছ থেকে ফুল নিয়ে যাওয়া হয় পুকুরে। তারপর পুকুরে মূল সন্ন্যাসী প্রথম ঝাঁপ দেন। ধাপে ধাপে অন্যান্য সন্ন্যাসীরা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে স্নান করেন। তারপর সেখানে জমায়েত হওয়া হাজার হাজার ভক্ত ঝাঁপ দিয়ে স্নান করেন। সেইজন্য সেখানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন থাকে। স্নান সেরে ভক্তরা দণ্ডি কেটে মন্দিরে আসেন। বাবার প্রসাদ ফল ছোড়ার রীতি রয়েছে। ভক্তরাই সেই ফল নেন। সেইজন্যও বিপুল জমায়েত হয়। এমনকী, গাজন উপলক্ষ্যে বাজি ফাটানোর চলও রয়েছে। এছাড়া মহকুমার অন্যান্য প্রান্তেও গাজনকে কেন্দ্র করে মানুষজন মেতে ওঠেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ