Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট নবীন ক্লাবের এবারের থিম মায়ানগরী, ফাইবার গ্লাসের মণ্ডপ, বাজেট ৪৫ লক্ষ

দুর্গাপুজোয় প্রাচীন শহর রামপুরহাট এবার এক টুকরো ‘মায়ানগরী’ হয়ে উঠবে।

রামপুরহাট নবীন ক্লাবের এবারের থিম মায়ানগরী, ফাইবার গ্লাসের মণ্ডপ, বাজেট ৪৫ লক্ষ
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: দুর্গাপুজোয় প্রাচীন শহর রামপুরহাট এবার এক টুকরো ‘মায়ানগরী’ হয়ে উঠবে। জেলা তথা শহরের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো করে নবীন ক্লাব। প্রতিবছরই তারা নতুন কিছু করে দেখায়। শুধু রামপুরহাট নয়, এই ক্লাবের পুজো ঘিরে জেলাবাসীর উৎসাহ থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২৫তম বর্ষে এবার তাদের থিম ‘মায়ানগরী’। রবিবার সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে থিমের উন্মোচন করেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত। চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। থিমের চমকে শহরের পুজোগুলিকে টেক্কা দেবে তাদের আয়োজন, দাবি উদ্যোক্তাদের। 

Advertisement

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। এক বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উমা বাড়ি ফিরছেন এই আশ্বিনে। প্রায় ন’মাস আগে থেকেই পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল নবীন ক্লাব। ক্লাবের সদস্যদের দাবি, এবার মণ্ডপে প্রবেশ করলে পুরো জগৎটাই পাল্টে যাবে। মায়ানগরী ছেড়ে বেরিয়ে আসতে মন চাইবে না দর্শকদের। এবার বাজেট প্রায় ৪৫লক্ষ টাকা। তবে মণ্ডপে থাকবে না কোনও কাপড়ের ছোঁয়া। পুরো মণ্ডপই হচ্ছে ফাইবার গ্লাস দিয়ে। যা এই জেলায় একেবারে নতুন। ‘মায়ানগরী’র ভাবনা সুচারুভাবে বাস্তবের রূপ দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন মেদিনীপুরের শিল্পী গোপাল ঘড়া। বিভিন্ন রঙের টুকরো টুকরো ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি পুতুল দিয়ে ভরিয়ে তোলা হবে মণ্ডপ। থাকবে ফাইবার গ্লাসের তৈরি নানা কারুকার্য। তার সঙ্গে রয়েছে অপরূপ আলোর কারসাজি। মণ্ডপের অন্দরমহলে থাকবে আধো আলো ছায়া। যা দর্শকদের মায়াবী পরিবেশ দেবে। প্রতি বছরই এই পুজোর প্রতিমায় অন্য আকর্ষণ থাকে। এবছরও তার অন্যথা হচ্ছে না। মায়ানগরীর সঙ্গে মানানসই ২৪ফুট উচ্চতার অপরূপ মৃন্ময়ী প্রতিমা দেখতেও ভিড় জমবে। মা এখানে আবহমানের চিন্ময়ী। আটচালায় সপরিবারে অধিষ্ঠিতা। সর্বাঙ্গে সাবেকিয়ানার স্পর্শ। মূর্তি তৈরি করছেন রামপুরহাটের শিল্পী আলো দাস। তাঁর দাবি, প্রতিমার চালা থেকে চারপাশের কারুকার্য দর্শকদের এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে থাকবে চন্দননগরের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। ক্লাবের কর্ণধার উজ্জ্বল ধীবর বলেন, আমরা প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের নতুন কিছু উপহার দিই। মণ্ডপের ভিতরে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে থাকবে সাউন্ডসিস্টেম। যা আলাদা অনুভূতি দেবে। আমাদের পুজো দেখতে ভিনজেলার মানুষও আসেন। তৃতীয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে ভার্চুয়ালি পুজো উদ্বোধনের চিন্তাভাবনা রয়েছে। মহালয়ার দিন থেকেই মণ্ডপের সামনে মঞ্চে বাউল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বস্ত্রদান, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। রক্তদান শিবির সহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানও রয়েছে। উৎসবের দিনগুলিতে জাঁকজমকে, জৌলুসে এই মণ্ডপ অলৌকিক হয়ে উঠবে। এর আগেও একাধিকরার পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে এই ক্লাব। এবারও সেরার শিরোপা মিলবে বলে আশা ক্লাবের সদস্যদের। আশিসবাবু বলেন, প্রতি বছরই নতুন কিছু করে দেখায় নবীন ক্লাব। এবারও তাদের আয়োজন দর্শকদের নজর কাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ