সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট: গত বছরের তুলনায় কোচবিহার জেলায় আলু চাষের জমির পরিমাণ এবছর প্রায় তিন হাজার হেক্টর বেড়েছে। পাশাপাশি, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আলুর উৎপাদন ভালোই হয়েছে। কিন্তু, মাঠ থেকে আলু তোলার পরে তা হিমঘরে নিয়ে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন চাষিরা। কারণ, জেলায় উৎপাদিত আলু রাখার জন্য হিমঘরগুলিতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে লরি, ট্রাক্টরে আলু বোঝাই করে হিমঘরের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যেটা এবছর প্রায় ৩৮ হাজার হেক্টর। এর ফলে জেলায় এবার ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপন্ন হয়েছে। জেলায় বর্তমানে ২২টি হিমঘর রয়েছে। যা জেলায় উৎপাদিত এই বিপুল পরিমাণ আলু রাখার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই মত চাষিদের। জেলার হিমঘরগুলিতে আলুর ধারণক্ষমতা মাত্র ৪ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে উদ্বৃত্ত আলু হিমঘরে রাখা নিয়েই চিন্তায় কৃষকরা। আলুচাষি স্বপন দাস, মকবুল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সব জায়গায় আলুর ভালো ফলন হয়েছে। ফলে হিমঘরে আলু রাখতে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাগছে। তাছাড়া হিমঘরেও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কোচবিহারে সব ব্লকে এখনও হিমঘর নেই। হিমঘরের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। তাহলে কৃষকরা হিমঘরে আরও বেশি করে আলু রাখতে পারবেন।
যদিও জেলা উপকৃষি অধিকর্তা অসিতবরণ মণ্ডল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর জেলায় আলু চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। জেলায় উৎপাদন হওয়া আলুর অর্ধেক জ্যোতি আলু। যা মূলত হিমঘরে স্টোর করা হয়। ফলে আলু রাখা নিয়েও কোন সমস্যা নেই।