সংবাদদাতা, সিউড়ি: শারদবন্দনার অন্যতম উপকরণ পদ্ম। অকালবোধনে দেবী দুর্গাকে শ্রীরাম ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করেছিলেন। প্রতিবারই শারদোৎসবের মরশুমে এই পদ্মের চাহিদা বেড়ে যায়। এবছরও পদ্মের উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি হয়েছে। তাই পুজোর আগে পদ্মের বাজার ধরতে চাষি ও আড়তদাররা ব্যস্ত। পুজোর মরশুমে দেশ বিদেশ থেকে পদ্মের ভালো অর্ডার এলে লাভের মুখ দেখবেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অর্ডার না পেলে লোকসানের আশঙ্কা তাঁদের।
বীরভূমের আহমদপুরে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে পদ্মের বাজার। সেখান থেকে পদ্ম দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশেও পাড়ি দেয়। এবছর পদ্মের উৎপাদন যথেষ্টই বেশি হয়েছে। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন সাধারণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাই পুজোর আগে পদ্মের বাজার ধরতে ব্যস্ত তাঁরা।
পদ্ম চাষিদের থেকে জানা গিয়েছে, তাঁরা প্রতিবছর চাষের জন্য পুকুর ভাড়া নিয়ে থাকেন। প্রতিবছর চৈত্র মাস থেকে পরবর্তী চৈত্র মাস হিসাবে ভাড়া নেওয়া হয় জলাশয়। পুকুরের আয়তনের উপর নির্ভর করে ভাড়া নির্ধারিত হয়। জানা গিয়েছে, ৩০ হাজার থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পুকুরের ভাড়া হয়ে থাকে। সেই পুকুরেই পদ্ম ফলান চাষিরা। মূলত তাঁদের লক্ষ্যে থাকে এই শারদোৎসব থেকে শুরু করে টানা পুজোর মরশুম। এই মরশুমেই পদ্মের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু চাষিদের দাবি, এবছর পদ্মের উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তাই কমেছে পদ্মের দাম। অন্য বছর একটি এক বিঘা আয়তনের পুকুরে দু’দিন অন্তর প্রায় ৬০০-৭০০টি পদ্ম তোলা যেত। কিন্তু এবছর প্রায় ১০০০-১২০০ পদ্ম তোলা হচ্ছে। তারজন্য দামও কিছুটা কমেছে। চাষিরা জানান, অন্য বছর এই সময় পদ্মের দাম থাকে ছ’-সাত টাকা পিস। সেখানে ২-৩ টাকা হিসেবে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। স্বাভাবিকভাবেই লোকসান এড়াতে দুর্গাপুজোর বাজারই ভরসা।
জেলার পদ্ম চাষি দয়াময় দাস, রাজকুমার বাগদি ও সুখেন বৈদ্যরা জানান, এবছর ভালো বৃষ্টি হয়েছে। সেকারণে পদ্মের উৎপাদন অনেকটা বেশি। পুজোর মরশুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অর্ডার আসে। সেই অর্ডার মিললে ভালো আয় হবে। তবে বাইরের অর্ডার না পেলে আমাদের লোকসান হবে।
আহমদপুর এলাকার পদ্মের আড়তদার তারক হালদার, নাজির শেখরা বলেন, এবার চাষ বেশ ভালো। দুর্গাপুজোয় ভালো অর্ডার মিললে ভালো আয় হবে। তাই আমরা পুজোর মরশুমের জন্য অপেক্ষা করছি।