সংবাদদাতা, বোলপুর: গত কয়েক বছরের মতো এবারও দোলের দিন বিশ্বভারতীতে ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব হচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে ‘বসন্ত বন্দনা’ আয়োজন করা হবে। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মীরাই অংশ নিতে পারবেন। কবে এই অনুষ্ঠান হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কনফারেন্স হলে সাংবাদিক বৈঠকে উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সকলকে নিয়ে বসন্ত উৎসব করা সম্ভব নয়। আমরা বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি কোনওভাবেই নষ্ট হতে দিতে পারি না।
শেষবার ২০১৯সালে বসন্ত উৎসবে সর্বসাধারণের প্রবেশ ছিল। ভিড়ের জেরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা হয়। যা সামলাতে হিমশিম খায় বিশ্বভারতী ও পুলিশ। তারপর করোনা পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন কারণে আর সার্বিকভাবে বসন্ত উৎসবের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ঘরোয়াভাবে বসন্ত বন্দনায় শুধুমাত্র পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মীরা অংশ নেন। এবার নতুন উপাচার্য কী পদক্ষেপ নেন সেদিকে নজর ছিল সকলের। গতবারের মতোই এবার বসন্ত বন্দনা হবে, উৎসব হচ্ছে না বলে জানালেন উপাচার্য। এদিন তিনি গত তিন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রথমবার মতো বিশ্বভারতী ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং’-এ আবেদন করেছে।
এর আগে এই র্যাংকিংয়ে অংশ নেয়নি বিশ্বভারতী। পাশাপাশি এনআইআরএফ র্যাংকিংয়ের জন্যও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই র্যাংকিংয়ে এবারের বিশ্বভারতীর মান বাড়বে বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। শ্রীনিকেতন ও শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রাঙ্গণে দু’টি নতুন হস্টেল তৈরির কাজ আগামী মাসে শেষ হবে বলে জানান তিনি।উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র এশিয়াটিক সোসাইটির সহায়তায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে এই কাজ পুরোপুরি সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাগজমুক্ত অফিস চালু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অশিক্ষক পদের শূন্যপদ আগামী ছ’-সাত মাসের মধ্যে পূরণ করা হবে বলেও জানান উপাচার্য। এছাড়া প্রথমবার আগামী জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেব্যাপারে উপাচার্য বলেন, কোয়ার্টারে চুরির ঘটনা রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাইট ও সাউন্ডের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথের জীবন তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তরায়ণ প্রাঙ্গণেও এই ব্যবস্থা থাকবে। কলকাতা বইমেলায় বিশ্বভারতীর স্টলে এবছর ১০লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। পৌষমেলা, মাঘমেলার মতো অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন সহায়তা করায় ধন্যবাদ জানান তিনি। ফাইল চিত্র