সংবাদদাতা, সিউড়ি: ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা ও তার প্রতিবাদের আবহে ‘বাঙালিয়ানা’কেই দুর্গাপুজোর থিম করল সিউড়ির চৌরঙ্গী ক্লাব। বুধবার ক্লাবের সভাপতি তথা পুরপ্রধান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় সেই থিমের উদ্বোধন করেন। সেখানে ৬নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, ক্লাবের সম্পাদক দেবাশিস ধীবর সহ অন্য ক্লাব সদস্য এবং এলাকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সিউড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা আন্দোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাতে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা এই থিমের পরিকল্পনা নিয়েছি।
চৌরঙ্গী ক্লাব সিউড়ি শহরের অন্যমত বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো আয়োজন করে। ৪৬তম বর্ষে পুজোর বাজেট প্রায় ১০লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তারা জানান, এবছর বাঙালির সংস্কৃতি, ভালোবাসার জিনিস, ভাষা আন্দোলন, নানা নামী বাঙালি ব্যক্তিত্বের ছবি দিয়ে থিম সাজানো হবে।
ক্লাবের সদস্যরা জানান, মণ্ডপের প্রবেশদ্বারেই থাকছে নানা ধরনের সাহিত্যের বই। কারণ বাঙালি বলতে যেটা মনে আসে, তা হল সাহিত্য ও বই। বাংলা নববর্ষের ছবি ফুটিয়ে তুলতে মণ্ডপসজ্জায় গামছা ও হাতপাখা ব্যবহার হচ্ছে। ফুটবল, চায়ের আসরে আড্ডা, ঘটি-বাঙালের লড়াই, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-এসব ছবিও দুর্গাপুজোর থিমে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেইসঙ্গে থাকছে বাংলার বিভিন্ন মনীষী, সাহিত্যিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস।উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাঙালিয়ানার গৌরব মনে করিয়ে দিতেই এমন থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। ক্লাবের সম্পাদক দেবাশিস ধীবর বলেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে যদি কারও সবচেয়ে বেশি অবদান থাকে, তবে তা হল বাঙালিদের। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বাংলা ভাষায় রচিত। জাতীয় গানও বাঙালি মনীষীর দ্বারা রচিত। এটাই প্রমাণ করে, জাতীয়তাবাদেও বাঙালির কত বড় অবদান কয়েছে। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি মানেই বাংলাদেশি নই। আমি বাংলায় কথা বলি মানে আমি ভারতীয় বাঙালি। এই থিমের মাধ্যমে সেটাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।