নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ক্যানিংয়ের বিভিন্ন পুজো কমিটি এবারও থিমের লড়াইয়ে অভিনবত্ব আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পুজো মিঠাখালি সর্বজনীন। ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাসের পুজো বলে পরিচিত এটি। থিম ও পরিবেশনায় অন্যদের টেক্কা দিতে প্রস্তুত তারা। তবে পিছিয়ে নেই বাকিরাও। কেউ বিষ্ণুর ১০ অবতার নিয়ে হাজির হচ্ছে, কেউ বা উত্তর ভারতের শিবমন্দিরের আদলে মণ্ডপ করে চমক দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মিঠাখালি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এবার ৪৮ তম বর্ষ। তাদের থিমের নাম মহাশক্তি। ১০ লক্ষ টাকার বাজেট এই পুজোর। বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে পুজোর দিনগুলিতে রোজ ২০ জন মিলে শিবের তাণ্ডব নৃত্য করবেন। চতুর্থীর দিন উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে এই পুজোর। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে, জানান পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক পরেশরাম দাস। তবে মূল পুজোর জন্য একটি ছোট মাটির প্রতিমাও থাকবে। গোলকুঠিপাড়া মিলনি সংঘের এবার শততম বর্ষ। ভগবান বিষ্ণুর ১০ অবতার দেখানো হবে মণ্ডপে। এটাই এবারের থিম বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির সম্পাদক সুশান্ত আচার্য। সাড়ে চার লক্ষ টাকার বাজেটে তৈরি হচ্ছে পুজো। মণ্ডপের ভিতরে নানা মডেল দিয়ে অবতার বোঝানো হবে। এছাড়াও থ্রি ডি, সেভেন ডি ওয়ালপেপার ব্যবহার করা হবে। থিমের পুজো হলেও প্রতিমা হচ্ছে সাবেকি ঘরানার। ক্যানিং গান্ধী কলোনির এবার ৪৯ তম বর্ষ। ৯ লক্ষ টাকার বাজেটে গোটা পুজো সারতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, উত্তর ভারতের একটি শিবমন্দিরের আদলে প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে। মণ্ডপের ভিতরে থাকছে রামায়ণের বিভিন্ন চরিত্র। থার্মকল, প্লাইউড প্রভৃতি সামগ্রী দিয়ে বানানো হচ্ছে মণ্ডপ। চন্দননগরের আলো দিয়ে সাজানো হবে এলাকা। পঞ্চমীতে উদ্বোধন হওয়ার কথা এই পুজোর। থিমের পুজো হলেও ঠাকুর সাবেকি ঘরানার। নিউ স্টার ক্লাবের পরিচালনায় রাজারলাট পাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটির এবারের চমক রাজস্থানের বিকানিরের একটি মন্দির। এই ধর্মীয় স্থানের আদলেই এখন গড়ে উঠছে মণ্ডপ। এবারে ৪৪ তম বর্ষে পা দিল এই পুজো।
উদ্যোক্তারা জানান, মণ্ডপের ভিতরে নানারকম মন্দিরের চিত্র, কিছু কাল্পনিক ছবি থাকবে। দর্শনার্থীরা এসে উপভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে, ক্যানিং ২ ব্লকের জীবনতলা খেলার মাঠে জীবনতলা সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপ হচ্ছে মহারাষ্ট্রের একটি মন্দিরের আদলে। জোরকদমে চলছে কাজ। এই পুজোর দায়িত্বে রয়েছে জীবনতলা দুর্গাবাহিনী দুর্গোৎসব কমিটি। মূলত থার্মকল দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে নানা কারুকাজ। নিজস্ব চিত্র