Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার হুমায়ুন কবীরের মেয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ

সোমবার জেইউপি পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের বেয়াই কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া সরিফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল পুলিশ।

এবার হুমায়ুন কবীরের মেয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: সোমবার জেইউপি পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের বেয়াই কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া সরিফুল ইসলামের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল পুলিশ। প্রাথমিক পর্যায়ে লালগোলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি লজ, বলরামপুর এলাকার একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং নলডহরি গ্রামের একটি বসতবাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভগবানগোলা এসডিপিও বিমান হালদার এবং লালগোলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নেতৃত্বে প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলে। পাশাপাশি, এদিন লালগোলা থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা এবং তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে হুমায়ুন কবীরের বেয়াই সরিফুল ইসলাম, বেয়ান ইয়ারুন্নেসা এবং জামাই রাইহান ইসলামের নামে থাকা ১৬ শতক জায়গা, রাইহান ইসলামের ১০ বিঘা জমি, রাইহান ও নাজমা সুলতানার নামে থাকা ১০ বিঘা আম-লিচু বাগান, হুমায়ুনের মেয়ের নামে একটি দোকান এবং ভবানীপুর ইটভাটা সংলগ্ন রাইহানের নামে থাকা একটি দোতলা বাড়ি। পুলিশ সূত্রে খবর, মাদক মামলায় প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। তালিকায় সরিফুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর নামে একাধিক বাড়ি, লজ, জায়গা-জমি, স্কুল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও দু’টি গাড়ি রয়েছে। দু’দিনে লজ, বসতবাড়ি, জায়গা-জমি সহ মোট ৯টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হবে। 
জেলা পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাতে অনেকে মাদক কারবার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। অনেক সম্পত্তি তৈরি করেছে। সীমান্তে মাদক কারবার বন্ধে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। যারা এই সকল অবৈধ কাজকর্ম করে সম্পত্তি তৈরি করেছেন তাঁরা শুধু ফৌজদারি তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে ফিনান্সিয়াল তদন্ত করে সম্পত্তি ফ্রিজ করে এনডিপিএস অ্যাক্টে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া মাদক কারবারের টাকায় অন্য কাজ করা হয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরিফুল ইসলাম লালগোলা থানার লালগোলা নলডহরির বাদিন্দা। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। লালগোলার যে কয়েকজন মাদক কারবারে ফুলেফেঁপে উঠেছে তাঁদের মধ্যে সরিফুল অন্যতম। সূত্রের খবর, মাদক কারবার করে সরিফুল ইসলাম স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে একশো কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি করেছেন। লালগোলা, লালবাগ, বহরমপুরের পাশাপাশি কলকাতা শহরেও হুমায়ুনের বেয়াইয়ের ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাদক কারবারের অভিযোগে পূর্বে দু’বার পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছিলেন সরিফুল। হুমায়ূনের মেয়ে নাজমা সুলতানা বলেন, ‘এসব পুলিশের চক্রান্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় পুলিশ অতি সক্রিয় হয়ে এসব করেছে। আমার বাবার সঙ্গে পেরে উঠছে না তারা। আমি হুমায়ূনের মেয়ে। তাই আমাকে নিশানা করা হচ্ছে।’ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘আমার সঙ্গে পেরে উঠছে না বলেই পরিবার এবং আত্মীয়দের নিশানা করা হচ্ছে। পুলিশ অতি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে। আমিও ছেড়ে কথা বলব না। আদালতে দেখা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ