সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সাতবারের বিধায়ক, টানা ২৫ বছরের মন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরীকে ছাড়া এবারই প্রথম বিধানসভা ভোট লড়বে আরএসপি। একদা বামেদের দুর্গ বালুরঘাটে বর্তমানে নিজেদের ভোট ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ আরএসপির কাছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিশ্বনাথের প্রয়াণের পর কীভাবে আসন্ন বিধানসভা ভোট বৈতরণি পার করবে আরএসপি, তা নিয়েই জোর চর্চা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটে। ভোটের প্রাক্কালে সেই কার্যালয়েও আজ নীরবতা।
বিশ্বনাথের অবর্তমানে এখন দলের দায়িত্বভার প্রাক্তন পুর চেয়ারপার্সন সুচেতা বিশ্বাসের কাঁধে। আরএসপির জেলা সম্পাদিকা সুচেতা বলেন, এটা ঠিক যে বিশ্বনাথ দার অবর্তমানে প্রথম ভোট করতে হচ্ছে। তাই এখানে কিছুটা আবেগ কাজ করছে। কারণ এতদিন তিনিই ভোটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। এখন তিনি না থাকলেও তাঁর দেখানো পথেই আমরা এগচ্ছি। ভোটের আগে আত্মবিশ্বাসী সুচেতা বলেন, গতবছর না পারলেও এবছর আমরা পারব। কারণ, তৃণমূল, বিজেপি- দুই দলকেই মানুষ আর চাইছেন না। বালুরঘাট বিধানসভার পাশাপাশি রাজ্যেও আমরা ভালো ফল করব। জেলা সম্পাদিকা যাই দাবি করুন না কেন, বালুরঘাটের সদর কার্যালয়ে লোকের ভিড় নেই। দিনের বেশিরভাগ সময় নিস্তব্ধ। ২০২১ এবং ২০২৪ সালেও বিশ্বনাথকে পার্টি অফিসে আসতে দেখা গিয়েছে। দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে তিনি নিতেন। যে লোকটির পরামর্শে, দিক নির্দেশে ভোটে লড়তেন দলের কর্মীরা, সেই বিশ্বনাথবাবু না থাকায় কিছুটা মনমরা অনেকে।পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে বালুরঘাট বিধানসভায় শেষবারের মতো আরএসপির প্রার্থী বিশ্বনাথ জয়ী হয়েছিলেন। ২০২১ সালে তিনি আর ভোটে দাঁড়াননি। তাঁর পরিবর্তে সুচেতাকে প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জিততে পারেননি। সেবার মাত্র ১৬ হাজার ভোট পেয়েছিল আরএসপি। যা মাত্র ১০ শতাংশ। গত লোকসভাতে ভোট কমে যায়- মাত্র ৪. ৩৮ শতাংশ। মোটকথা, গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে বালুরঘাটে বামেরা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বালুরঘাটে রামের শক্তি যতই বেড়েছে, বামের ঝুলি ততই কমেছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ছয়টি বিধানসভার মধ্যে বরাবর আরএসপি বালুরঘাট, তপন এবং কুশমণ্ডিতে প্রার্থী দেয়। বাকি তিন আসনে সিপিএমের তরফে প্রার্থী দেওয়া হয়। এবারের ছাব্বিশের নির্বাচনে নতুন কৌশল নিয়েছে আরএসপি। দলীয় সূত্রে খবর, যুবদের উপরই ভরসা রাখছে দল। যুবদের সামনে এনে বিশ্বনাথের দল আরএসপি কি পারবে ঘুরে দাঁড়াতে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।