নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার রাজ্যে পদ্মফুল চাষ হয়েছে ভালো। ফলে অনুমান, দুর্গাপুজোয় ওড়িশা থেকে পদ্ম আমদানি করতে হবে না। বঙ্গের পদ্মতেই আরাধনা সম্পূর্ণ হবে দুর্গার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার রাজ্যে পদ্মফুল চাষ হয়েছে ভালো। ফলে অনুমান, দুর্গাপুজোয় ওড়িশা থেকে পদ্ম আমদানি করতে হবে না। বঙ্গের পদ্মতেই আরাধনা সম্পূর্ণ হবে দুর্গার।
কলকাতার জগন্নাথ ঘাট ফুলবাজারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পদ্মফুল জন্মায় জলাশয়, খাল, বিল ও নয়ানজুলিতে। কিন্তু এবার চাষের কিছু জমিতে পদ্ম চাষ হয়েছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে। সে কারণে ভিন রাজ্য থেকে আনার প্রয়োজন এবার হবে না। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘ওড়িশার পদ্ম হয় ছোটো আকারের ও সাদা। সে ফুলের উজ্জ্বলতা কম। কিন্তু এ রাজ্যের পদ্ম আকারে বড়ো। অধিকাংশই গোলাপি রঙের। ফলে দাম কিছুটা বেশি বলেও চাহিদা থাকে। কোনো বছর রাজ্যে পদ্ম উৎপাদন কম হয়। সে কারণে খোলা বাজারে জোগান অব্যাহত রাখতে ওড়িশা থেকে আমদানি করতে হয়।’
অন্যান্য ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, দশভুজার আরাধনায় সন্ধিপুজোর সময় ১০৮ পদ্মফুলের প্রয়োজন। ওইদিন সারা রাজ্যে এক কোটিরও বেশি পদ্মের চাহিদা থাকে। এছাড়াও অন্যান্য দিনও ঠাকুরকে পদ্মফুল নিবেদন করতে হয়। এবছর যে পরিমাণ চাষ হয়েছে তাতে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না বলেই আশা করা যাচ্ছে। দুর্গাপুজো ক্রমশ এগিয়ে আসছে। পুজোর সপ্তাহখানেক আগে থেকেই বিভিন্ন হিমঘর থেকে পদ্ম চলে যায় কলকাতার ফুলবাজারে। সেখান থেকে বড়ো বড়ো পুজো উদোক্তারা ও শহরের খুচরো ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। দুর্গা থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত চাহিদা বেশি থাকে। ওই সময় দামও থাকে চড়া। কিন্তু এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় সমস্যা হবে না। তবে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত পদ্মের দাম কতটা ওঠানামা করে তার দিকে লক্ষ্য থাকবে সবার। যদিও কিছু জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়েছে গাঁদা, দোপাটি, রজনীগন্ধার মতো ফুলের চাষে। অথচ পুজোয় এ সমস্ত ফুলের চাহিদাও থাকে। ফুলচাষি সমর সামস্ত ও সুজয় প্রামাণিক বলেন, ‘বৃষ্টির জেরে এই সমস্ত ফুলের কুঁড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে। পুজোর দিনগুলি বড়ো হলুদ গাঁদা, রজনীগন্ধার মালার দাম বেশি থাকবে।’